হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় হিরা মনি (২৫) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া কাজীপাড়া গ্রামের একটি কলাবাগানের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত হিরা মনি যদুনন্দী ইউনিয়নের বড়খারদিয়া ছয়আনী গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা চুন্নু মোল্যার স্ত্রী। তিনি এক সন্তানের জননী। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেলে কলাবাগানের ভেতরে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। পরে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন রয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক মোল্যা বলেন, “লোকমুখে শুনেছি, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর হিরা মনি আত্মহত্যা করেছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। ঘটনার পর থেকেই তার স্বামী চুন্নু মোল্যা পলাতক রয়েছে। তাকে খুঁজে বের করার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি আমরাও চেষ্টা করছি।”
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ খারদিয়া কাজীপাড়া গ্রামের একটি কলাবাগান থেকে গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন। তাকে আটক করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। একমাত্র সন্তানকে রেখে গৃহবধূর এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।