বিশ্বকাপ ট্রফি সামনে থেকে দেখার অভিজ্ঞতা যে কোনো ফুটবলারের জন্যই স্বপ্নের মতো। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়ার জন্য সেই অভিজ্ঞতা ছিল এক কথায় 'জোস'। প্রথমবারের মতো সশরীরে সোনালী ট্রফিটি দেখে নিজের উচ্ছ্বাস আর ভালো লাগা লুকিয়ে রাখেননি এই মিডফিল্ডার।
সম্প্রতি ট্রফি সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে আসা ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিটি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয় জামালের। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সেই অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, 'এক্সপেরিয়েন্স জোস ছিল, টু বি অনেস্ট। গিলবার্তো (সিলভা) ট্রফি নিয়ে এসেছেন। এই প্রথম আমি বিশ্বকাপ ট্রফি সরাসরি দেখলাম, তাই আমার খুব ভালো লাগছে। আমি ভেবেছিলাম ট্রফিটা হয়তো ছোট হবে, কিন্তু এটা আসলে বেশ বড়।'
ট্রফির ওজন সম্পর্কে নিজের কৌতূহলের কথা জানিয়ে জামাল বলেন, 'আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম এটার ওজন কেমন? জানলাম প্রায় ৭ কেজি পিওর গোল্ড। অভিজ্ঞতা সত্যিই খুব ভালো ছিল, আমি তো এক প্রকার স্টার-স্ট্রাক হয়ে গিয়েছিলাম।'
সাক্ষাৎকার চলাকালে জামাল আশা প্রকাশ করেন, এই ট্রফির উপস্থিতি বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে, 'যারা ফুটবলার হতে চায় কিংবা কঠোর পরিশ্রম করছে, তাদের জন্য এই ট্রফি একটি মোটিভেশন। আশা করি, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে একদিন বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবলে নতুন কোনো অধ্যায় লিখতে পারবে।'
ব্যক্তিগত পছন্দের কথা বলতে গিয়ে শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করেন জামাল। বিশ্বকাপটি যে নিয়ে এসেছেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান তারকা গিলবার্তো সিলভা। ব্রাজিলের ভক্ত জামালের জন্য তা ছিলো অন্যরকম ভালো লাগার, 'আমি ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলকে ফলো করি কারণ আমার প্রথম প্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন রোনালদো। গিলবার্তোর সামনেই বলছিলাম, বিশেষ করে ২০০২ সালের সেই দলটি আমাকে অনেক অনুপ্রাণিত করেছে। তখন আমার বয়স ছিল ১২ বছর। সেই দলে রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনহো এমনকি গিলবার্তো নিজেও ছিলেন।'
আসন্ন বিশ্বকাপে কোন দলকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নে জামাল কিছুটা কৌশলী। ডেনমার্কে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার বলেন, 'অবশ্যই আমি চাইব ডেনমার্ক জিতুক। তবে ডেনমার্ক যদি না পারে, তবে ট্রফিটা ব্রাজিলের হাতেই দেখতে চাই।'
গত ৩ জানুয়ারি সৌদি আরবের রিয়াদে ইতালিয়ান কিংবদন্তি আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরোর ট্রফি উন্মোচনের মাধ্যমে এই ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফি সফরের যাত্রা শুরু হয়। ফিফা এবং কোকা-কোলার যৌথ আয়োজনে দীর্ঘ ১৫০ দিনের এই সফর বিশ্বের ৭৫টি স্থানে ৩০টি দেশ প্রদক্ষিণ করছে। আগামী ১১ জুন মেক্সিকোতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হবে এই বিশ্বভ্রমণ। উৎস: ডেইলি স্টার।