মিয়ানমার সীমান্তে গুলিবিদ্ধ টেকনাফের শিশু হুজাইফা আফনানের মস্তিষ্কের রক্তনালীতে গুলির আঘাত লেগে স্ট্রোক হয়েছে বলে জানিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। এতে মস্তিষ্কের ডান পাশে চাপ বেড়ে গেছে এবং তার অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন রয়েছে। সর্বশেষ বোর্ড সভায় আপাতত দেশেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে অনুষ্ঠিত মেডিকেল বোর্ডের সভা শেষে এসব তথ্য জানানো হয়। বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলির কারণে হুজাইফার মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যা তার বর্তমান জটিল শারীরিক অবস্থার প্রধান কারণ।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে যে চিকিৎসা চলমান রয়েছে, তার সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু ওষুধ যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে মস্তিষ্কের চাপ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুটিকে এখনো মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে, অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে তার শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রয়েছে।
মেডিকেল বোর্ড জানায়, হুজাইফার গ্লাসগো কোমা স্কেল অনুযায়ী জ্ঞানের মাত্রা ১৫-এর মধ্যে ৭, যা তার অবস্থাকে গুরুতর হিসেবে নির্দেশ করে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ পর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার প্রতিটি পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বোর্ড সভা শেষে ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু ঢাকা পোস্টকে বলেন, আপাতত দেশেই হুজাইফার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা ধাপে ধাপে নির্ধারণ করা হবে।
চিকিৎসকরা বলছেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে মস্তিষ্কে রক্তনালীর ক্ষতি ও স্ট্রোক একসঙ্গে হওয়ায় হুজাইফার চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল। এ কারণে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তার চিকিৎসা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।