শিরোনাম
◈ কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, শুল্ক বাড়ানোর হুমকি ◈ কেন দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে ঢাকা? ◈ জাহাজের আড়ালে চোরাই তেলের সিন্ডিকেট, মাদকের বিনিময়ে চলছে বাণিজ্য ◈ আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল: টিকিটের দামেই নতুন ইতিহাস ◈ লেবারের নেতৃত্বে অ্যান্ডি বার্নহাম, প্রথম ভাষণেই ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ◈ নদীর পানি বাড়ছে, উত্তরাঞ্চল ও সিলেটে বন্যা নিয়ে সতর্কতা ◈ মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের গুঞ্জন, আলোচনায় একাধিক নতুন নাম ◈ ইরানে ট্রাম্পের ‘মহাপরিকল্পনা’ কি স্থল অভিযানের প্রস্তুতি? ◈ শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সহযোগী তানিম রেজা বাপ্পি আটক ◈ সরকারের ৫ মাস পূর্তি: শনিবার সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

প্রকাশিত : ১৮ জুলাই, ২০২৬, ০৯:১০ সকাল
আপডেট : ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:১২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সংবিধান সংস্কার ইস্যু: সংসদ ও রাজপথে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ বাড়ছে 

মনিরুল ইসলাম : সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও মতবিরোধ দেখা দেয়। বিশেষ করে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত বিশেষ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এ বিরোধ চরমে পৌঁছে। একপর্যায়ে প্রতিবাদস্বরূপ সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সদস্যরা।

সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ইস্যুতে দুই মেরুতে অবস্থান নেয় সরকার ও বিরোধী দল। এই ইস্যুতে তাদের মধ্যে বাড়ছে দূরত্ব। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে অনড় বিরোধী জোট। তবে সরকারি দলের তরফে বলা হয়েছে, বিদ্যমান সংবিধানে এমন কোনো পরিষদের অস্তিত্ব নেই।

এদিকে,জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট  তারা এখন সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও আন্দোলন জোরদারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিকে সামনে রেখে তারা তৃণমূল পর্যন্ত কর্মসূচি বিস্তারের ঘোষণা দিয়েছে। কর্মসূচি পালন করেছে। সংসদ চলাকালীন রংপুরে বিশাল সমাবেশ করেছে তারা।বিরোধী দলের নেতারা বলছেন, বিশেষ কমিটির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ কেবল সংসদে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সংসদের পাশাপাশি মাঠেও আন্দোলন জোরদার করা হবে।

অন্যদিকে, সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, “দেশের চলমান বাস্তবতা, উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং জনগণের প্রত্যাশার আলোকে সংবিধানের কিছু ধারা সময়োপযোগী করা প্রয়োজন।” 

তিনি আরও জানান, এ লক্ষ্যেই একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিত্ব রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

তবে আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। 

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি অভিযোগ করে বলেন, সরকার একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিচ্ছে এবং এতে জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতের প্রতিফলন ঘটছে না। 

বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ  নাহিদ ইসলামসহ বিরোধীদলীয় নেতারা “জুলাই সনদ” বাস্তবায়ন ও গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

বিরোধীদলীয় একাধিক সদস্য বক্তব্যে বলেন, “সংবিধান রাষ্ট্রের মূল চুক্তি। এটি সংশোধনের আগে জনগণের সরাসরি মতামত নেওয়া জরুরি। গণভোট ছাড়া কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়।” তারা অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিরোধী দল ওয়াকআউটের সিদ্ধান্ত নেয় এবং সংসদ কক্ষ ত্যাগ করে। এ সময় সরকারপক্ষ থেকে বিরোধীদের এই পদক্ষেপকে ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, সংবিধান সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এটি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংসদই সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান। এখানে আলোচনা, বিতর্ক ও মতবিনিময়ের মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।” তিনি বিরোধীদলকে সংসদে থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সরকারপক্ষের সদস্যরা দাবি করেন, সংবিধান সংস্কার দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে বিরোধী দল এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উদ্যোগ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।

তবে, ১৫ জুলাই  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন সমাপনী বক্তব্যে  প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা তারেক রহমান  জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে সরকার।  এ নিয়ে কোন সন্দেহ পোষণ করা সঠিক হবে না।

১৭ জুলাই শুত্রুবার সকালে  জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একই কথার প্রতিধ্বনি করে বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়ন করব।

তবে সংসদে এ ইস্যুতে চলমান এই টানাপোড়েন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। 

সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক  মহলের মতে, সংবিধান সংস্কারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা না হলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়