শিরোনাম
◈ পশুর হা‌ট নি‌য়ে বিএনপি-জামায়াত প্রতি‌যো‌গিতা, দর্শকের ভূ‌মিকায় এন‌সি‌পি ◈ লা লিগায় লড়াই ক‌রে জিত‌লো বার্সেলোনা ◈ রাজনীতিতে ফিরে এলে আবারও আওয়ামী লীগের হয়েই মাঠে নামবেন, জানালেন সাকিব আল হাসান ◈ দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকা ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ ফুটবলে ◈ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যেভাবে জড়ালেন সাবেক বাংলাদেশি ছিটমহলের বাসিন্দারা ◈ ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৮ জন ◈ বিশ্বকাপ ইস‌্যু‌তে ইরান শিগ‌গির ফিফার সঙ্গে বৈঠকে বসছে ◈ ভিজিট ভিসায় হজ করা যাবে না: হজযাত্রীদের সৌদির সতর্কবার্তা ◈ বি‌শ্বের সব দে‌শেই লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিং তাণ্ডব আ‌ছে, ব‌্যতিক্রম আমা‌দের ক্রিকে‌টে: লিটন দাস ◈ ঢালাও মামলা ও জামিন জটিলতায় বিপাকে সাংবাদিকরা, পরিবর্তনের আশায় নতুন সরকারের দিকে নজর

প্রকাশিত : ০৩ মে, ২০২৬, ০৭:৩৯ সকাল
আপডেট : ০৩ মে, ২০২৬, ১২:৩৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কতজন মুক্তিযোদ্ধা আছেন জামায়াতে, যা জানাগেল

বাংলা ট্রিবিউন প্রতিবেদন: সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংসদে তিনি দাবি করেন, ‘একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না— করলে ডাবল অপরাধ।’ তার এই বক্তব্যের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির একাধিক সংসদ সদস্য। সংসদের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই বাদানুবাদ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা দল জামায়াতে কি আসলেই কোনও মুক্তিযোদ্ধা আছেন, আর থাকলেও কতজন?

জামায়াতে কতজন মুক্তিযোদ্ধা আছেন, এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া কঠিন। দেশব্যাপী কর্মী-সমর্থকদের ঠিক কতজন মুক্তিযোদ্ধার তার পরিসংখ্যান খোদ জামায়াতের কাছেও নেই। তবে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বাংলা ট্রিবিউনের কাছে দাবি করেন, ‘জামায়াতে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা আছেন।’

তার ভাষ্য, ‘সরকারি গেজেটে তালিকাভুক্ত এই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে রয়েছেন। তারা সরকারের নিয়মিত বরাদ্দ ও ভাতাও পাচ্ছেন। সবার বয়স প্রায় সত্তরের ওপরে। আবার দলটির অনেক মুক্তিযোদ্ধা কর্মী এরই মধ্যে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন।’

তবে তার এই দাবি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে কোনো তথ্য জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) কাছে কোনো তথ্য আছে কিনা জানতে চাইলে পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ), উপসচিব মোহাম্মদ উল্যাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের পাশে তো লেখা থাকে না কে কোন দল করেন। কে বিএনপি, কে জামায়াত, কে আওয়ামী লীগ; এটা তো আমাদের জানার কথা নয়।’

ত্রয়োদশ সংসদে জামায়াতের দুই মুক্তিযোদ্ধা

অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের আলোচিত বক্তব্যের আগেই জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তা‌বের ওপর আলোচনার সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে দাবি করেন, ‘বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীতে কোনো মুক্তিযোদ্ধা নেই।’ তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায় বিরোধীদল। অবশ্য এই বক্তব্যের সময়ই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেন, ‘বিরোধীদলের বেঞ্চেও মুক্তিযোদ্ধা আছেন।’ তিনি উল্লেখ করেন, তিনি নিজে দেখেছেন গাজী নজরুল ইসলাম একজন মুক্তিযোদ্ধা।

সারা দেশে জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার হিসাব না পাওয়া গেলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দলটির ৬৮ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে দুজন গেজেটেড বীর মুক্তিযোদ্ধা আছেন। তাঁরা হলেন, গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছ, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

মাওলানা আবদুল হালিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই সংসদে জামায়াতের ৬৮ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে গেজেটেড দুজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আর এমনিতে জামায়াতের মধ্যে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা আছেন।’

অবশ্য এই মুক্তিযোদ্ধারা সেই সময়ে জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না বলে দাবি করেছেন সরকার দলীয় এমপি আবুল হোসেন খান। বরিশাল-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন দলের কী ভূমিকা ছিল, তা আমরা জানি। জামায়াতে মুক্তিযোদ্ধা আছেন, তবে মুক্তিযুদ্ধের সময় তখন কেউ জামায়াত করতেন না। তারা পরে জামায়াতে গেছেন।’

জামায়াতের ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’: কী, কবে গঠিত

জামায়াতপন্থি মুক্তিযোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে দলটির একটি সহযোগী সংগঠনও রয়েছে, যার নাম ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’। দলটির শীর্ষ নেতাদের ভাষ্যমতে, ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে যখন যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি জোরালো হতে থাকে, তখন এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। 

অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন এবং সেক্রেটারি জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তাজিরুল ইসলাম। ৭০ জন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে রয়েছেন। 

আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে পল্টনে ‘মানব শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের’ একটি কক্ষে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবস্থিত। তবে সংগঠনটির সরকারি কোনও অনুমোদন নেই এবং অনলাইনেও কোনও ওয়েবসাইট খুঁজে পাওয়া যায়নি। ২০২৫ সালের ১২ জুলাই ফেসবুকে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ’ নামের একটি পেজ থাকলেও দৃশ্যমান কোনও কার্যক্রম নেই সেখানে। 

সম্প্রতি অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে ৭০ জন মুক্তিযোদ্ধা সই করেছেন বলে জামায়াতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। তারা ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে ‘অসংসদীয়’, ‘অপ্রীতিকর’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থি’ বলে অভিহিত করেছেন। 

বিবৃতি অনুসারে, স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে যেকোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা তার পছন্দ অনুযায়ী যেকোনও রাজনৈতিক আদর্শ অনুসরণ করতে পারেন। স্বাধীনতার পর মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন দলে— আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাসদ ও জাতীয় পার্টিতে বিভক্ত হয়েছেন এবং অনেকেই ১৯৭৯ সালের পর জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। 

জামায়াতপন্থি মুক্তিযোদ্ধাদের এই সংগঠনে কারা আছেন

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের তালিকায় সভাপতি মোসলেম উদ্দিন ও সেক্রেটারি তাজিরুল ইসলাম ছাড়াও সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. ফজলুল হক এবং সহ-সভাপতি মো. আবদুল ওয়ারেছ, ডা. আলতাফ হোসেন, মো. শাহাবুদ্দিন, সহ-সভাপতি, মো. মতিউর রহমান। 

সদস্যরা হলেন— মো. শামসুদ্দিন মিয়া, মো. বোরহান উদ্দিন, আব্দুল করিম, মোকাররম হোসেন, কামাল উদ্দিন, হাফিজ উদ্দিন, আহসান উল্লাহ পাটোয়ারী, আনোয়ার হোসেন, মো. আব্দুল হামিদ, দৌলত আহমেদ, নূর মোহাম্মদ, নজরুল ইসলাম বকসী, হুমায়ুন কবির, মোকসেদ আলী প্রধান, আব্দুস ছাত্তার, একরামুল হক, ওমর ফারুক, নুরুজ্জামান, আব্দুল হাকিম, শফিকুর রহমান, ডি. এস. শাহজাহান, মো. নাছিম, রমজান আলী, আবুল কালাম আজাদ, জহুরুল হক, খন্দকার নাসির উদ্দিন নাসিম, মো. আজিজুর রহমান, শেখ গোলাম মস্তফা, ডা. এম. এ. সাত্তার, মো. রমজান আলী।

এছাড়া মো. তোফাজ্জল হোসেন হেলাল, মো. সোহরাব উদ্দিন খান, মো. জয়নাল আবেদীন, মো. আব্দুর রশিদ রাসু, মো. সাদেক আলী, মো. সানাউল্লাহ সরদার, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল কাদের, মো. আব্দুস সামাদ, আকমল হোসেন, মো. আবুল কাশেম বিশ্বাস, মো. আব্দুস সামাদ, মো. গোলাম রব্বানী, ডা. আব্দুল মজিদ, মো. আইয়ুব আলী, মো. আব্দুল খালেক, মো. আমজাদ হোসেন, আব্দুল কাদের, আবুল হোসেন, শামসুল হক, শাহ আলম প্রধান, আব্দুল খালেক, শেখ শাহজাহান, ফজলে রাব্বি, মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া, হাজী এনায়েত উল্লাহ, শহীদুল্লাহ, শামসুল হক, আবুল হাশেম, হাফেজ আহছান উল্লাহ, আবু সাঈদ, অলি মিয়া, হামিদুল হক, আবুল হোসেন মল্লিকের নামও রয়েছে। এদের সবাইকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করেছেন এই পরিষদের নেতারা। 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়