স্পোর্টস ডেস্ক : আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শুধু টপ অর্ডারের উপর ভরসা করে বসে থাকার দিন শেষ। বিশ্বের শক্তিশালী দলগুলো এখন সাত-আট নম্বরেও ঝড় তোলে। কিন্তু বাংলাদেশের চিত্র একদম উল্টো — টপ অর্ডার মুখ থুবড়ে পড়লেই যেন দলের সব স্বপ্নও ধুলোয় মিশে যায়।
নিউজিল্যান্ড সিরিজের শেষ ম্যাচে ঠিক এটাই হলো। উপরের সারির ব্যাটাররা ফ্লপ করতেই রান সংগ্রহ আটকে গেল মাঝারি মানে, আর সেই পুঁজি নিয়ে লড়াই করে হারতে হলো শেষমেশ।
অধিনায়ক লিটন দাস কোনো রাখঢাক না রেখেই বললেন — লোয়ার অর্ডার থেকে যতটুকু অবদান দরকার, সেটা পাওয়া যাচ্ছে না, এবং এই দুর্বলতা না কাটলে সামনেও বিপদ অপেক্ষা করছে। --- ডেইলি ক্রিকেট
তার ভাষায়, প্রথম প্রেস কনফারেন্সে আমি একটা কথা বলেছিলাম যে আমাদের লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব আছে। আমরা চাই যে তারা আমাদেরকে ইনপুট দেবে ব্যাটিংয়ে। সো আজকে জায়গা ছিল বাট আবারও ব্যর্থতা।
এদিন শেখ মেহেদী, রিশাদ হোসেন আর সাইফউদ্দিন মিলে যোগ করলেন মাত্র ১২ রান। রিশাদ ৫, মেহেদী অপরাজিত ৭, আর সাইফউদ্দিন শূন্য — সংখ্যাগুলোই বলে দেয় অবস্থাটা কতটা হতাশাজনক।
লিটন অবশ্য কেবল সমালোচনা করেই থামেননি। তিনি বোঝালেন, টি-টোয়েন্টিতে পাঁচজন বোলার না রাখলে খেলাই সম্ভব নয়। তাই দলের প্রয়োজন এমন অলরাউন্ডার, যারা চার ওভার বল করবেন আবার সাত নম্বরে নেমে কার্যকরভাবে ব্যাট ঘোরাতেও পারবেন।
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে এ রকম কোনো খেলোয়াড় আপনার চোখে আছে, যে ৭ নম্বরে খেলবে, ৪ ওভার বোলিং করবে আবার ব্যাটিংও করতে পারবে? থাকলে বলবেন।’
মেহেদী-রিশাদদের সক্ষমতা নিয়ে তাঁর আস্থা আছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে পারফরম্যান্সের ঘাটতিটাই এখন মাথাব্যথার কারণ।
সমাধান? লিটন জানেন, এটা রাতারাতি হওয়ার নয়। ব্যাটিং কোচরা কাজ করছেন, নেটে ঘাম ঝরছে — কিন্তু নেটের অনুশীলন আর মাঠের বাস্তবতা এক জিনিস নয়।
তাঁর বিশ্বাস, ম্যাচে সুযোগ পেয়ে রান করতে পারলেই এই ব্যাটাররা আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবেন। বিশ্বকাপ আসার আগেই যেন সেই উন্নতিটুকু আসে — এটাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।