শিরোনাম
◈ এবার চাঁদাবাজির তথ্য জানতে ওয়েবসাইট চালু করেছেন মির্জা ফখরুল ◈ কে হ‌চ্ছেন রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার? সবার নজরে খন্দকার মোশাররফ ও মঈন খান ◈ একটি গবেষণা রকেট যেভাবে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধিয়ে ফেলেছিল প্রায় ◈ এক হালি ডিমের দামেও মিলছে না একটি লেবু ◈ দুর্বল উলভসকে হারা‌তে পার‌লো না আর্সেনাল ◈ ইমরান খা‌নের অসুস্থতা নিয়ে পাকিস্তান সরকারকে তোপ সৌরভ গাঙ্গু‌লির, উদ্বেগে আজহারও ◈ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ কতটা মোকাবেলা করতে পারবে বিএনপি সরকার? ◈ ভারতের আন্তর্জাতিক নৌ মহড়ায় বাংলাদেশ, ৭০ দেশের নৌবাহিনীর অংশগ্রহণ ◈ যে কারণে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে হোটেলের বাসন মাজতে হলো হ‌কি খেলোয়াড়দের ◈ আজ বাংলামোটরে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি

প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪২ দুপুর

প্রতিবেদক : মহসিন কবির

রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ কতটা মোকাবেলা করতে পারবে বিএনপি সরকার?

মহসিন কবির: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শপথের পরের দিন কাজ শুরু করে দিয়েছেন। মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। সিদ্ধান্তও নিয়েছেন অনেক, কিন্তু কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন সেটাই জনমনে প্রশ্ন। আর সেটায় যদি ঘাটতি থাকে তাহলে লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভব হবে না। 

১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন ৪৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার আকার ৫০। নবগঠিত মন্ত্রিসভা ভালো হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা আরও বলছেন, অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত এ মন্ত্রিসভা কতটুকু ভালো করবে, তা নির্ভর করছে তাদের প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনার ওপর।

কেমন হলো নতুন মন্ত্রিসভা? আগামীর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন সরকার কতটা পারদর্শিতা দেখাতে পারবে? এমন প্রশ্নে অর্থনীতিবিদ ও লেখক ড. মাহবুব উল্লাহ্ আমাদের সময়কে বলেন, মন্ত্রিসভার আকারটা বড় হয়েছে। ৪০-৪৫ জনে সীমিত থাকলে আরও ভালো হতো।

মন্ত্রিসভায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান স্থান পাওয়ায় ত্রয়োদশ সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ অনেকের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে। কিন্তু বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেন এটা তার অভিজ্ঞতার পুরস্কার।

এ বিষয়ে ড. মাহবুব উল্লাহ্ গণমাধ্যমকে বলেছেন, অবশ্যই এটা দেশের জন্য খুব ভালো। তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ভালো জানেন। ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে ভালো বোঝেন। ড. ইউনূস সরকারের আমলে তিনি অনেক ভালো কাজ করেছেন। সেই কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য তার প্রতিভা ব্যবহার করা দরকার।

নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তবে তিনি উপদেষ্টা থেকে মন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে ড. খলিলুর রহমান সম্পর্কে গণমাধ্যমকে  বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সাবেক উপদেষ্টার নিয়োগের বিষয়টি যৌক্তিক কারণেই কৌতূহলোদ্দীপক বিবেচিত হতে পারে। তবে খুব একটা অবাক করার মতো বিষয়ও নয়। নতুন সরকার হয়তো বিভিন্ন বিবেচনায় তাকে বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে সবচেয়ে যোগ্য বিবেচনা করেছে।

প্রথমে রোহিঙ্গাবিষয়ক হাইরিপ্রেজেনটেটিভ, পরবর্তীতে জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি বাস্তবে পররাষ্ট্র; বিশেষ করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। হয়তো তার এ ভূমিকা নতুন সরকার ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টার লন্ডন সফরের সময়ে তার ভূমিকা মনে রাখলে এ নিয়োগকে অস্বাভাবিক কিছু ভাবার সুযোগ নেই।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেছেন, অতীতের মতোই এই মন্ত্রিসভার আকার। অতীতের অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিসভার নিয়োগ যথার্থ বলা যায়। পুরনো অভিজ্ঞ অনেকেই রয়েছেন। তারা যার যার জায়গায় পারদর্শিতা দেখাবেন, আশা করা যায়। তিনি বলেন, নতুন মন্ত্রিসভার প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীরা প্রথম ১০০ দিনে কী পরিকল্পনা নেন, সেটার ওপর অনেককিছু নির্ভর করছে।

তাদের একশ দিনের কর্মপরিকল্পনা দেখে বোঝা যাবে কেমন করতে যাচ্ছেন। সদ্যবিদায়ী সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে একজন এবারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছে। বিষয়টা কীভাবে দেখছেন, জানতে চাইলে এই অধ্যাপক বলেন, আইনের কোনো ব্যতয় হয়েছে কিনা সেটা বলতে পারব না। টেকনোক্র্যাট থেকে নেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। এতে সমস্যা হওয়ার কথা না।

নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে বিদায় ঘটেছে অন্তর্বর্তী সরকারের। অন্তর্বর্তী সরকারের কাজের অভিজ্ঞতা এবং আগামী সরকার কেমন হতে পারে? জানতে চাইলে সদ্য সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, মন্ত্রিসভা ভালোই হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নিশ্চয়ই ভালো করবেন। দেখা যাক।

নতুন সরকারের পথচলা নিয়ে রাজধানীর সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা হয়েছে এ প্রতিবেদকের। তাদের সারকথা— সরকার ভালো হয়েছে। গত ১৮ মাস নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে পার করেছি। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, এটাই বড় স্বস্তি। এ সরকারের কাছে প্রথম চাওয়া হচ্ছে, এক দিন বাদেই রমজান শুরু হচ্ছে। রমজানের সময় আমরা সাধারণ মানুষ যেন ন্যায্যমূল্যে জিনিস কিনতে পারি। মানুষের নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত হয়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়