সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স থেকে ধীরে ধীরে সরে দাঁড়াচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি কাউন্সিল, দাতব্য সংস্থাসহ নানা সংগঠন ইতোমধ্যে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার বন্ধ বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিবিসি–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুল ‘গ্রোক’কে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই টুলের মাধ্যমে বাস্তব ব্যক্তিদের বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর ছবি তৈরি করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ড কাউন্সিল ফর ভলান্টারি অ্যাকশন (নিকভা) গত মার্চ মাসেই এক্সে পোস্ট দেওয়া বন্ধ করে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী সেলিন ম্যাকস্ট্রাভিকের মতে, প্ল্যাটফর্মটি তাদের নীতিমালার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে ভুয়া তথ্য, ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য বাড়ছিল।
তার ভাষায়, একসময় টুইটার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের কার্যকর মাধ্যম ছিল। কিন্তু গত দুই বছরে পরিবেশের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে।
কমিউনিটি ফাউন্ডেশন ফর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডও গত মে মাসে এক্স ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সংস্থাটির প্রতিনিধি ডেভিড কেনেডি জানান, অনিয়ন্ত্রিত ও আপত্তিকর মন্তব্যের প্রবণতা তাদের এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় ও নতুন অভিবাসীদের নিয়ে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।
২০২২ সালে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার অধিগ্রহণ করেন ইলন মাস্ক। এরপর প্ল্যাটফর্মটির নাম পরিবর্তন করে এক্স রাখা হয়। সমালোচকদের দাবি, কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়ায় ঘৃণাত্মক বক্তব্যের পরিমাণ বেড়েছে।
সোমবার বেলফাস্ট সিটি কাউন্সিল এক্স ব্যবহার স্থগিত করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তারা গ্রোক এআই–সংক্রান্ত তদারকির বিষয়ে অফকম–এর পর্যালোচনার ফলাফলের অপেক্ষায় থাকবে।
গ্রিন পার্টির কাউন্সিলর ব্রায়ান স্মিথ বলেন, নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। তার মতে, লাভের চেয়ে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
এদিকে ডাবলিন সিটি কাউন্সিল জানুয়ারিতে এক্সে পোস্ট দেওয়া বন্ধ করে। চলতি সপ্তাহে পুলিশ সার্ভিস অব নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড জানিয়েছে, তারা জেলা পর্যায়ের এক্স অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করছে। ব্যবহার ও সম্পৃক্ততার মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্ট এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এমন প্ল্যাটফর্মে থাকতে চায় যা সম্মানজনক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। তাদের মতে, গত কয়েক বছরে এক্সের পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে।
তবে এক্সের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—প্ল্যাটফর্মটি কি আগের অবস্থান হারাচ্ছে, নাকি এটি পরিবর্তনের একটি পর্যায় মাত্র? যাই হোক, ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সরে যাওয়া এক্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে উঠছে।
সূত্র: যুগান্তর