শিরোনাম
◈ মজুতদার ও বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের যুদ্ধ ঘোষণা ◈ জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় পিছিয়ে নতুন সময় ঘোষণা ◈ পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে শুরু রোজা ◈ বিএনপি জোট ৩৫ ও জামায়াত ১৩ সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে: ইসি ◈ মানবিক সফরে ঢাকায় এলেন বিশ্বকাপজয়ী মেসুত ওজিল ◈ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি নেয়া যাবে না, নীতিমালা জারি ◈ স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ◈ পরীক্ষায় নকল-প্রশ্নফাঁস আর ফিরে আসবে না: শিক্ষামন্ত্রী ◈ যত দ্রুত সম্ভব পৌর-সিটি ও উপজেলা নির্বাচনের ব্যবস্থা করবো: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ◈ জাতীয় জুলাই সনদের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে রিট

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:১৬ দুপুর
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৮:০২ রাত

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

নুর ও সাকিকে মন্ত্রিসভায় নিয়োগ দিয়ে কি প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখেছেন?

২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় নির্বাচনে তার দল বিএনপি বিপুল বিজয় অর্জন করে। বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর তারেক রহমান তার মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছেন। পাঁচ দিন পর গঠিত এই মন্ত্রিসভায় দু’জন আলোচিত ছাত্রনেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তারা হলেন নুরুল হক নুর এবং জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জনপ্রিয় নাম জোনায়েদ সাকি)। তারা দু’জনই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। নুর ২০১৮ সালের চাকরিতে কোটা-বিরোধী আন্দোলনের সময় জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান, আর সাকি একজন সুপরিচিত বামঘেঁষা রাজনীতিক।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র। তিনি লন্ডনে ১৭ বছর স্বেচ্ছা-নির্বাসনের পর দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

নুরুল হক নুর কে?

বাংলাদেশের দক্ষিণে পটুয়াখালী জেলার এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নুরুল হক নুরের। ৩৪ বছর বয়সী এই নেতা বিএনপি-সমর্থিত গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হন। ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। সে সময় সরকারি চাকরির অর্ধেকের বেশি পদ কোটা পদ্ধতিতে সংরক্ষিত ছিল। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, সরকার এই কোটা পদ্ধতিকে দলীয় সমর্থকদের পুরস্কৃত করতে ব্যবহার করছে।

ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সরকার তখন কোটা বাতিল করতে বাধ্য হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের জুনে আদালত কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করলে নতুন করে আন্দোলন শুরু হয়, যা দ্রুত শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ১৫ বছরের শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনের অভিযোগে তার সরকার সমালোচিত। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নুর গুরুত্বপূর্ণ সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন।

তিনি গণ অধিকার পরিষদের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এক নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে দলটি অভ্যন্তরীণ বিভাজনেও ভুগেছে। হাসিনা-পরবর্তী সময়ে নুর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সংস্কার ও শাসনব্যবস্থা ইস্যুতে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান।

জোনায়েদ সাকি কে?

৫২ বছর বয়সী জোনায়েদ সাকি রাজনীতিতে যুক্ত হন ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের সময়। তিনি ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি গণসংহতি আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক, যা একটি প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল। ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও অংশ নেন, কিন্তু জয়ী হননি। তবে এবারের নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে ৫৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। নির্বাচনের পর তিনি বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সব দলকে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। তিনি বিএনপি নেতাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

কেন তাদের মন্ত্রিসভায় নেয়া হলো?

নতুন সংসদের মতোই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে কম। নুর ও সাকিসহ সব জুনিয়র মন্ত্রীই প্রথমবার দায়িত্ব পেয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাদের নিয়োগ অপ্রত্যাশিত নয়। তারা বিএনপির জোটসঙ্গী দলের প্রতিনিধি। একই সঙ্গে তারা ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন।

তাই তাদের নিয়োগকে একদিকে জোটের প্রতি অঙ্গীকার রক্ষা এবং অন্যদিকে আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে জুনিয়র মন্ত্রী হওয়ায় তাদের ক্ষমতা সীমিত থাকবে। পূর্ণমন্ত্রী করলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাদ দিতে হতো। তাই প্রধানমন্ত্রীকে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়েছে।

২০২৪ সালের ছাত্রনেতাদের দল এখন কোথায়?

জুলাই ২০২৪ আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রক্ষণশীল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেয়। তবে তারা বড় সাফল্য পায়নি। ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ৬টিতে জয়ী হয়। দলটির নেতা ২৭ বছর বয়সী নাহিদ ইসলাম নির্বাচিত হয়ে নতুন সংসদের অন্যতম কনিষ্ঠ সদস্য হয়েছেন। এখন এনসিপি ও জামায়াত বিরোধী দলে অবস্থান করছে। অনুবাদ: মানবজমিন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়