শিরোনাম
◈ রোজায় স্কুলের ছুটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল শিক্ষা মন্ত্রণালয় ◈ জনগণের নিরাপত্তা ও মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ মজুতদার ও বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের যুদ্ধ ঘোষণা ◈ জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সময় পিছিয়ে নতুন সময় ঘোষণা ◈ পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে শুরু রোজা ◈ বিএনপি জোট ৩৫ ও জামায়াত ১৩ সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে: ইসি ◈ মানবিক সফরে ঢাকায় এলেন বিশ্বকাপজয়ী মেসুত ওজিল ◈ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি নেয়া যাবে না, নীতিমালা জারি ◈ স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ◈ পরীক্ষায় নকল-প্রশ্নফাঁস আর ফিরে আসবে না: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৮:৫১ রাত
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শহরের চেয়েও মূল্যবান সৈকত: নামিবিয়ার হীরার ভাণ্ডার

হীরা তৈরি হয় পৃথিবীর ম্যান্টলের প্রায় ১৫০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার গভীরে, ভয়ংকর চাপ ও তাপমাত্রার মধ্যে। ধাতুর মতো হীরার অবস্থান শনাক্ত করার জন্য কোনো নির্ভরযোগ্য ডিটেক্টরও নেই।

কিন্তু কল্পনা করুন, এমন এক জায়গা আছে, যেখানে হীরা খুঁজে পেতে খননযন্ত্রেরও প্রয়োজন নেই; খালি চোখেই দেখা যায়! এমন খবর পেলে কে না ছুটবে সেখানে? জমি কিনে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্নও দেখবে অনেকে।

জার্মানরা ঠিক এমনটাই করেছিল দক্ষিণ-পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নামিবিয়াতে।

আজ যে অঞ্চলটি ‘সাউ খায়েব ন্যাশনাল পার্ক’ নামে পরিচিত, সেটি একসময় ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এলাকা। প্রায় ২৬ হাজার বর্গকিলোমিটারজুড়ে এই অঞ্চল দক্ষিণে ওরেঞ্জ রিভার থেকে উত্তরে লুডেরিৎজ পর্যন্ত বিস্তৃত। জার্মান ঔপনিবেশিক সরকার শুধু অঞ্চলটির দখলই নেয়নি, সাধারণ মানুষের প্রবেশও নিষিদ্ধ করেছিল—হীরার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার জন্য।
 
কেন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল নামিবিয়ার এই অঞ্চল

১৯০৮ সালে অগাস্ট স্টাউচ নামে এক রেলকর্মী লুডেরিৎজের কাছে হীরার সন্ধান পান।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র ‘ডায়মন্ড রাশ’। পরিস্থিতি সামাল দিতে জার্মান সরকার অঞ্চলটিকে নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে।

এই অঞ্চলে কেবল খনি-কর্মীরাই প্রবেশের অনুমতি পেতেন। বেআইনি খনন ঠেকানো এবং পৃথিবীর সবচেয়ে দামি রত্নগুলোর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রাখাই ছিল লক্ষ্য।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বাহিনী অঞ্চলটির দখল নেয়, তবু নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে।

কেন নামিবিয়ার সৈকত শহরের থেকেও দামি

১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত স্থলভাগেই হীরা তোলা হতো। পরে ভূতত্ত্ববিদরা নিষিদ্ধ এই উপকূলে হীরাবাহী নুড়িপাথরের সন্ধান পান। তাই এই সৈকতগুলো পরিচিত হয়ে ওঠে ‘ডায়মন্ড বিচ’ নামে।

লাখ লাখ বছর ধরে ওরেঞ্জ রিভার আফ্রিকার অভ্যন্তর থেকে হীরা বয়ে এনে আটলান্টিক মহাসাগরে ফেলেছে।

ফলে শুধু উপকূল নয়, সমুদ্রতলও হয়ে উঠেছে হীরায় সমৃদ্ধ।

১৯৫০-এর দশকে ছোট পরিসরে সামুদ্রিক খনন শুরু হয়, যা ১৯৮০-এর দশকে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাপক আকার নেয়। এক সময় মাত্র ২০ মিটার গভীরতা থেকেই ১৫ লাখ ক্যারাট হীরা তোলা হয়েছিল।

আজও খনন চলছে—যদিও আগের মতো নয়। ওরেঞ্জমুণ্ড শহরের আশপাশে প্রায় ৯৭ কিলোমিটার উপকূলজুড়ে এখনো খোঁজা হয় উচ্চমানের হীরা। নামিবিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক হীরার ভাণ্ডার রয়েছে—আনুমানিক ৭ কোটি ৫০ লাখ ক্যারাট।

নিষিদ্ধ এই এলাকায় এখন কী দেখা যায়

বর্তমানে এই নিষিদ্ধ অঞ্চল সাউ খায়েব ন্যাশনাল পার্ক-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কিছু জায়গায় পর্যটকদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান হলো এক সময়ের সমৃদ্ধ খনি শহর ‘কলমানস্কপ গোস্ট টাউন’, যা আজ বালিতে ঢেকে যাওয়া জার্মান ঔপনিবেশিক ভবনের জন্য বিখ্যাত।

এ ছাড়া পোমোনা ও এলিজাবেথ বে-এ প্রাচীন হীরা খনির চিহ্ন দেখা যায়। ডিয়াজ পয়েন্ট-এর বাতিঘরও পর্যটকদের আকর্ষণ করে। বিশেষ অনুমতি নিয়ে গাইডসহ দেখা যায় ৫৫ মিটার উঁচু এক প্রাকৃতিক শিলা-খিলান বোগেনফেলস।

আজও নামিবিয়ার অর্থনীতিতে খনন, পর্যটন, মৎস্য ও কৃষি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়