মনিরুল ইসলাম : রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো সাংবাদিক ও সম্পাদক মারুফ কামাল খানের লেখা বই ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’–এর মোড়ক উন্মোচন। মঙ্গলবার বিকেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মানুষের সমাগম ঘটে, ফলে মিলনায়তনে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। শুরুতে আয়োজনে কিছুটা হিমশিম খেতে হলেও পরে প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। তিনি বইটির উচ্চ প্রশংসা করে বলেন, “লেখকের আর্থিক সুবিধার জন্য নয়, নিজেদের জ্ঞান বৃদ্ধি ও চিন্তাকে শানিত করতে হলে এই বইটি পড়তে হবে। লেখা ও বিষয়বস্তুর গুণে এটি কালোত্তীর্ণ হবে।” তিনি আরও বলেন, বইটি সাংবাদিকতা ও রাজনীতির বাস্তব অভিজ্ঞতার এক অনন্য সংমিশ্রণ।
সূচীপত্রের প্রকাশক ও প্রধান নির্বাহী সাঈদ বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “একসময় দেশে পড়ালেখার প্রতি অনীহা ছিল, লাইব্রেরিগুলো ছিল পাঠকশূন্য। কিন্তু এখন সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে আমরা নতুন বাস্তবতায় দাঁড়িয়েছি। এমন সময়ে ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’র মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশিত হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।” তিনি দেশের বিভিন্ন লাইব্রেরিতে বইটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “এই বই শুধু সুখপাঠ্য নয়, বরং সংগ্রহে রাখার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বইটি পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী নতুন নতুন ব্যাখ্যা দেবে।” তিনি লেখকের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বইটি নিয়ে আলোচনা করেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাঈদ, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনরা।
বক্তারা বইটির বিষয়বস্তু, ভাষা ও উপস্থাপনা নিয়ে প্রশংসা করেন। তারা বলেন, বইটিতে রাজনীতির অন্দরমহলের নানা অজানা দিক ও চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যা পাঠকদের নতুনভাবে ভাবতে শেখাবে।
লেখক মারুফ কামাল খান তার বক্তব্যে বলেন, “আপনারাই এখন বিচারক, আমি কাঠগড়ায়। আপনাদের উৎসাহ আমাকে আরও ভালো লেখার প্রেরণা দেবে।”
সভাপতির বক্তব্যে প্রকাশক সাঈদ বারী দেশের প্রকাশনা শিল্পের বর্তমান সংকটের কথা তুলে ধরে এ খাতের উন্নয়নে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। উল্লেখ্য, ‘রাজনীতির সদরে-অন্দরে’ বইটি ইতোমধ্যে পাঠক মহলে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে বলে আয়োজকরা জানান।