শিরোনাম
◈ বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর, অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করতে পাবেন পেনশন! ◈ চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে বিএসএফের ১১ জনের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করল বিজিবি ◈ গণমাধ্যম এখন বিজনেস হাউসের প্রতিনিধি হয়ে গেছে: মির্জা ফখরুল ◈ আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কত? যা জানাগেল ◈ এবার পরিবর্তন হচ্ছে যে উপজেলার নাম ◈ ফজরের নামাজের সময় খুলনায় মসজিদে দুর্বৃত্তদের গুলিতে দুই মুসল্লি গুলিবিদ্ধ ◈ ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছে’, রামিসা হত্যা মামলায় হাইকোর্টে প্রধান আসামির দাবি ◈ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ৮১ শতাংশই ঝুঁকিতে, লোকসানের ভারে চাপে অর্থনীতি, ৮ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকার দায় ◈ এমপি ঘিরে বলয়, প্রার্থী নিয়ে বিরোধ: জামায়াতে বাড়ছে বিদ্রোহী প্রবণতা, শাস্তি দিয়েও থামছে না প্রার্থিতা-লবিং ◈ হাড্ডাহা‌ড্ডি লড়াই, ১ গো‌লে হাইতি‌কে হারা‌লো স্কটল‌্যান্ড

প্রকাশিত : ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:০৯ বিকাল
আপডেট : ১১ জুন, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শাহজালাল বিমানবন্দরের আগুনে পোড়া ছাই এখন ৫০ লাখ টাকার সম্পদ

গত বছরের ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় লাগা সেই ভয়াবহ আগুনের স্মৃতি এখনো অনেকের মনে দাউদাউ করে জ্বলছে। দীর্ঘ ২৭ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও কার্গো কমপ্লেক্সের বিশাল এলাকাজুড়ে জমা হয়েছিল ছাই, ধোঁয়া আর পোড়া মালামালের এক বিশাল স্তূপ। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই ধ্বংসস্তূপই এখন হয়ে উঠেছে এক বিকল্প অর্থনীতির উৎস, যেখানে ধ্বংসাবশেষের ছাইয়ের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা।

বিমানবন্দরের সেই পোড়া মালামাল নিয়ে গড়ে উঠেছে এক ভিন্নধর্মী বাণিজ্যিক চক্র। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মালামালগুলো প্রথমে প্রায় ৫০ লাখ টাকায় একজন বড় ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়। এরপর কয়েক দফা হাতবদল হয়ে তা এসে পৌঁছায় তৃতীয় পক্ষের কাছে। এই তৃতীয় পক্ষই মূলত পোড়া বর্জ্য থেকে মূল্যবান অংশগুলো খুঁজে বের করার কাজ শুরু করে।

বর্তমানে বিমানবন্দরের সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে বাছাই করা হচ্ছে লোহা, পিতল, দস্তা ও সিলভারসহ নানা ধরনের ধাতব বস্তু। একদল অভিজ্ঞ শ্রমিক দিনরাত কাজ করে এই পোড়া স্তূপ থেকে ব্যবহারযোগ্য অংশগুলো আলাদা করছেন। তাদের কাজের প্রক্রিয়াটিও বেশ কৌশলী; প্রথমে পোড়া বর্জ্য সংগ্রহ করে তা পানিতে ভালোভাবে ধোয়া হয়। এরপর প্রাপ্ত ধাতব অংশগুলো গলিয়ে তৈরি করা হয় বিশেষ 'বাধ', যা পরবর্তীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ঢাকার বিভিন্ন কারখানায়। সেখানে এসব পুনরুৎপাদিত ধাতু থেকে তৈরি হয় নতুন নতুন কাঁসা ও পিতলের পণ্য।

এই কাজের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকরা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় পোড়া মাল থেকে সম্পদ খুঁজে বের করতে পারদর্শী হয়ে উঠেছেন। প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক এই বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। তাদের মতে, বংশপরম্পরায় এই কাজ করে আসায় এখন এটিই তাদের প্রধান জীবিকা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে দৈনিক ৮০০ টাকা হাজিরায় কাজ করে তাদের সংসার চলছে এই পোড়া মালামালের ওপর ভিত্তি করেই।

স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা জানান, প্রথম পক্ষের কাছ থেকে কয়েক হাত ঘুরে আসার পর তারা এসব মাল কেনেন। লোহাগুলো সরাসরি পাইকারদের কাছে চলে গেলেও পিতল ও সিলভারের মতো মূল্যবান ধাতুগুলো প্রক্রিয়াজাত করার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে পুরো এই প্রক্রিয়া শেষ করে লাভের মুখ দেখতে প্রায় তিন মাসের মতো সময় অপেক্ষা করতে হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, বিমানবন্দরের সেই ধ্বংসাবশেষ একদিকে যেমন জাতীয় ক্ষতির চিহ্ন বহন করছে, অন্যদিকে এর পুনর্ব্যবহার অপচয় কমাতে সাহায্য করছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে মূল্যবান ধাতু সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের এই কর্মযজ্ঞ বহু মানুষের জন্য তৈরি করেছে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ।

সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়