শিরোনাম

প্রকাশিত : ০২ অক্টোবর, ২০২২, ০২:১৩ রাত
আপডেট : ০২ অক্টোবর, ২০২২, ০২:১৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আজকালকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্দোলন করার সেই মনোভাব আর নেই 

মাহবুব মোর্শেদ

মাহবুব মোর্শেদ: ১৯৯৮ সালে যখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন শুরু হল তখন চারিদিকে ছিঃ ছিঃ রব পড়ে গেলো। অনেকেই বলতে শুরু করলো, ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এই আন্দোলনের কারণে জাহাঙ্গীরনগরের সব ছাত্রীকে লোকজন খারাপ চোখে দেখবে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু তখন যারা আমাদের নেতা ছিলেন তারা এসব কথায় দমে যাননি। কর্মী হিসেবে তাদের কাছে আমরা অনেক কিছু শিখেছিলাম। তারা আমাদের বলতেন, আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া মানে ধর্ষকদের প্রশ্রয় দেওয়া। আন্দোলনের পরাজয় মানে নিপীড়কদের নিপীড়ন চালিয়ে যাওয়ার রাস্তা করে দেওয়া। ফলে কিছুতেই পিছু হটা যাওয়া যাবে না। ধর্ষণ-নিপীড়ন নির্যাতনের পর আমরা যদি চুপ করে থাকি তবে সবচেয়ে সুবিধা হয় ধর্ষক নিপীড়কদের। আমরা সকল বাধা, সকল সমালোচনা উপেক্ষা করে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন করেছিলাম এবং সফল হয়েছিলাম। তারপর বহু বছর জাহাঙ্গীরনগরে ধর্ষণ নিপীড়ন নির্যাতন রোধ করা গিয়েছে। এ কথাটা তো সত্যি, বাংলাদেশে অনেক ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনা সামনে আসে না। পরিবার ও ভিক্টিমের সম্মানের কথা ভেবে ঘটনাগুলো চেপে যাওয়া হয়। এ কারণে বেশিরভাগ সময় নিপীড়করা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিচার বা শাস্তির মুখোমুখি না হওয়ায় তারা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় দ্রুত। আরো বেশি অপকর্ম করতে থাকে। নতুন নতুন মেয়েদের ভিক্টিম বানাতে থাকে। 

চুপ করে থেকে কখনো এইসব নির্যাতন নিপীড়নের সমাধান করা যায়নি। এটাই ইতিহাসের শিক্ষা। ইডেন কলেজে যে অনৈতিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু হচ্ছে সে কথাগুলো এসেছে বিবদমান ছাত্রলীগের নেত্রীদের মুখ থেকে। তারা প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য এমন কথা বলতে পারেন। কিন্তু যারা পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল তারা জানেন ছাত্রলীগ নেত্রীরা যে অভিযোগ করছেন তাতে সত্যতা আছে কি নেই। ফলে তাদের অভিযোগ এক কান দিয়ে শুনে অন্য কান দিয়ে বের করে দেওয়ার কোনো উপায় নেই। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ উত্থাপিত হলে উচ্চতর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথমেই একটি নিরপেক্ষ সত্যাসত্য যাচাই কমিটি গঠন করতে হয়। যাতে ভিকটিমরা তাদের কাছে নিজেদের নিপীড়নের ঘটনাগুলো নাম পরিচয় গোপন রেখে প্রকাশ করতে পারে। যাচাই কমিটি যদি অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায় তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে কলেজ কর্তৃপক্ষকে। কলেজের মান সম্মান বা ৩৫ হাজার ছাত্রীর মান সম্মানের দিকে তাকিয়ে গুরুতর অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। কেননা এ অবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। আজ হয়তো তিনজন ছাত্রী নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, কিন্তু কাল ৩০ জন হবেন না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে যারা কলেজের মান সম্মান নিয়ে চিন্তিত তারা আসলে নিপীড়কদের পক্ষেই দাঁড়াচ্ছেন প্রকারান্তরে। এক্ষেত্রে কর্তব্য হলো তীব্র দাবি তোলা। সিট বাণিজ্য চাঁদাবাজি ইত্যাদি তো আছেই। সাধারণ ছাত্রীরা এত অনাচার কিভাবে দিনের পর দিন মেনে নিচ্ছেন সেটা বোধগম্য নয়।

কিন্তু অনেকের মনোভাব দেখে মনে হচ্ছে, আজকালকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্দোলন করার সেই মনোভাব আর নেই। বরং নির্যাতন নিপীড়ন মেনে নিয়ে কোনোক্রমে ছাত্র জীবনটা পার করে দিতে পারলেই তারা বাঁচেন। আন্দোলনের সম্ভাব্যতা না থাকলে এসব ক্ষেত্রে সরকারের কাছে দাবি-দাওয়া জানানো ছাড়া উপায় থাকে না। আমার মনে হয়, নিপীড়ন নির্যাতন নীরবে মেনে নেওয়া পশ্চাৎপদ শিক্ষার্থীদের কাছে আন্দোলনের আবদার জানানোর চেয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করা অনেক ভালো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইডেন কলেজের ছাত্রী ছিলেন। তিনি নিশ্চয়ই তার সাবেক কলেজে তারই ছাত্র সংগঠনের নেত্রীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এমন অপকর্মের অভিযোগ মেনে নেবেন না। ফলে তার কাছেই দাবি জানাই। ছাত্রলীগের অভিযুক্ত নেত্রীদের বিরুদ্ধে তিনি যেন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। লেখক ও সাংবাদিক। ফেসবুক থেকে 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়