মনিরুল ইসলাম: জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার ভাষণকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে। এ সফরে ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর রূপরেখা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।
নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত সময়সূচি কাটাবেন। তিনি গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে অবস্থান করবেন এবং শুরুতেই জাতিসংঘ মহাসচিবজাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশগ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিক সাইডলাইন বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, কৌশলগত সহযোগিতা এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি এসডিজি অগ্রগতি, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সেশনগুলোতেও বক্তব্য রাখবেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরবেন। আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক চুক্তির (আইসিসিপিআর) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাগরিকদের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ২০০০ সালে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
বিশ্বমঞ্চে এই ভাষণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিশেষ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে জাতিসংঘে ভাষণ দেন এবং ২০০৫ সালে একই মঞ্চে বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া । সেই ধারাবাহিকতায় এবার ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তাদের উত্তরসূরি তারেক রহমান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই পরিবারের তিন নেতার জাতিসংঘের মতো বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য রাখা দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা। এটি শুধু পারিবারিক ঐতিহ্য নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতারও প্রতিফলন।
সফর ঘিরে প্রবাসীদের প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন ঘিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর শুধু কূটনৈতিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর ভিশন তুলে ধরা, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা এবং ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা—এই তিনটি দিকেই সফরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।