‘মাইগ্র্যান্ট রিপেট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২’-এর মাধ্যমে নথিবিহীন বিদেশিদের দেশে ফেরার সুযোগ দিচ্ছে মালয়েশিয়া সরকার। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ভিসাহীন বাংলাদেশিদের দেশে ফিরে যেতে তাগিদ দিয়েছে কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ফেসবুক পেজে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) তরিকুল ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান।
ভিডিও বার্তায় তরিকুল ইসলাম বলেন, “আপনারা হয়তো জানেন, অনিয়মিত বা নথিবিহীন বিদেশি অভিবাসীদের জন্য বর্তমানে মালয়েশিয়া সরকারের ইমিগ্রেশন বিভাগের একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর নাম ‘মাইগ্র্যান্ট রিপেট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২’ বা ‘বিআরএম ২.০’। এই কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত বা নথিবিহীন বিদেশি নাগরিক বা কর্মীরা আইনসম্মতভাবে ও নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
“প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা এই কর্মসূচির আওতায় দেশে ফিরতে চান, তাদের সহজ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রথমত, বৈধ ও মেয়াদযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে। যাদের বৈধ পাসপোর্ট নেই বা পাসপোর্টের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে, তারা বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে একটি ট্রাভেল পারমিট বা টিপি নেবেন।
“এরপর দেশে ফেরার জন্য বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। মালয়েশিয়ার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, টিকিটের যাত্রার তারিখ ইমিগ্রেশনে অ্যাপয়েন্টমেন্টের কমপক্ষে পাঁচ দিন পর এবং ১৪ দিনের মধ্যে হতে হবে।”
আবেদনকারীকে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে জানিয়ে তরিকুল ইসলাম বলেন, “কোনো প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে না। আবেদনের সময় সঙ্গে রাখতে হবে—মূল পাসপোর্ট অথবা ট্রাভেল পারমিট, পাসপোর্টের বায়োডাটা পৃষ্ঠার কপি, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন পাসের কপি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন উভয় পাসপোর্ট এবং বাংলাদেশে ফেরার বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট।
“সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ফি ও প্রযোজ্য জরিমানা ইমিগ্রেশন বিভাগের অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে হবে। আবেদন করার আগে সর্বশেষ ফি ও শর্তাবলি ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নিতে হবে।”
অনিয়মিত বাংলাদেশিদের সতর্ক করে তরিকুল ইসলাম বলেন, “মনে রাখবেন, বিআরএম ২.০-এর আবেদন করতে কোনো দালাল, প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন। নিজের আবেদন নিজেই করুন এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
“ভাই ও বোনেরা, আপনারা যদি এই কর্মসূচির আওতায় আইনসম্মতভাবে এবং নিরাপদে দেশে ফিরতে চান, তাহলে শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নিন।”