ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও ডিজিটাল করতে কাজ করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। একই সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স পাঁচ বছর মেয়াদে নবায়নের ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
রবিবার রাজধানীর ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, আইন-শৃঙ্খলা, মানবাধিকার উন্নয়ন ও ট্রেড লাইসেন্স সেবা’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রশাসক বলেন, ট্রেড লাইসেন্স সেবায় জোর-জবরদস্তির পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে চায় সিটি করপোরেশন। তিনি বলেন, ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, হোল্ডিং ট্যাক্স ও অন্যান্য কর পরিশোধের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ট্রেড লাইসেন্স পাঁচ বছর মেয়াদে নবায়নের দাবিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সাইনবোর্ড কর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনেক সাইনবোর্ডের প্রকৃত আয়তন অনুযায়ী কর নির্ধারণ হয় না। তবে এ বিষয়ে কাউকে হয়রানি নয়, বরং ন্যায়সংগত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।
সভায় রাজধানীর যানজট, ফুটপাত দখল ও অবৈধ হকার সমস্যাকে ঢাকার প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে আবদুস সালাম আরও বলেন, হকার ও ব্যাটারিচালিত রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় এনে নির্ধারিত সংখ্যার ভিত্তিতে লাইসেন্স দেওয়া হবে। এতে তাদের পরিচয় ও কার্যক্রম একটি ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় দীর্ঘদিনের বকেয়া ট্রেড লাইসেন্স ও সিটি করপোরেশনের মার্কেটগুলোর ভাড়া আদায়ের সমস্যারও সমাধান করা হবে। এ জন্য বাজারভিত্তিক সমন্বয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রশাসক আরও বলেন, রাজধানীকে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে নাগরিকরা ঢাকাকে নিজেদের শহর হিসেবে গর্বের সঙ্গে ধারণ করতে পারেন।
তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে বলেন, যানজট, ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি ও নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী সমাজকেও নেতৃত্ব দিতে হবে। তাদের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।
সভায় ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ করিম।
এছাড়া দুই সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডিসিসিআইর পরিচালক ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।