মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি (এফএসআরইউ) আজ থেকে আংশিকভাবে চালু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এফএসআরইউ থেকে গতকাল মধ্যরাতের পর থেকে আংশিক এবং ১০ আগস্ট পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে বলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে গতকাল নিশ্চিত করেছে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত ৪ আগস্ট মঙ্গলবার রাত থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করার জন্য কুলডাউন শুরু হয়েছে বলে পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)-এর এলএনজি বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ কবির বাংলাদেশ প্রতিদিনকে গতকাল বলেন, আজ বুধবার ৫ আগস্ট মধ্যরাতের পর থেকে আংশিকভাবে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা হবে। সব ঠিক থাকলে সাগরে থাকা এলএনজিবাহী কার্গো থেকে গ্যাস নেওয়া শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে অর্থাৎ গ্যাসের সরবরাহ পর্যায়ক্রমে বাড়বে। এক্ষেত্রে এলএনজি থেকে আগামী ১০ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আরপিজিসিএল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিভিন্ন ধাপে এফএসআরইউটির কুল ডাউন প্রক্রিয়া চলছে। এটি শেষ হলে তারপর গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। জানা যায়, এফএসআরইউ দিয়ে সরবরাহের জন্য এলএনজিবাহী একটি জাহাজ গভীর সমুদ্রে অপেক্ষায় রয়েছে। এফএসআরইউ চালুর সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ শুরু করা হবে।
অবশ্য এর আগে ১ ও ৪ আগস্ট এফএসআরইউটি আংশিক চালুর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছিলেন ১ আগস্ট আংশিক চালুর কথা। তবে সেই সময়ের মধ্যে চালু করা যায়নি। গত ২১ জুলাই এফএসআরইউটি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে দৈনিক ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এজন্য সারা দেশে ভয়াবহ গ্যাস সংকট বিরাজ করছে।
এদিকে, আরপিজিসিএল চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, টার্মিনালটির দুটি বয়লারের একটির ত্রুটি সারিয়ে গ্যাস সরবরাহ শুরুর চেষ্টা চলছে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে সীমিত আকারে সরবরাহের কথা থাকলেও সেটি সম্ভব হচ্ছে না। মধ্যরাত থেকে সরবরাহ শুরু হতে পারে। মধ্যরাতে চালু করা গেলেও শুরুতে সরবরাহ ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি হবে না।
তিনি আরও জানান, আমদানিকৃত এলএনজিবাহী একটি কার্গো আজ বৃহস্পতিবার এসে পৌঁছাতে পারে। তাই আজ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের আশা করা হচ্ছে। অপর বয়লারটি চালু করতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
গ্যাস সংকটে দেশজুড়ে ভোগান্তি : গ্যাস সংকটের কারণে বর্তমানে দেশজুড়ে আবাসিক, শিল্পকারখানা, যানবাহন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেশ সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে গত কয়েকদিনে শিল্প কারখানার উৎপাদনে মারাত্মকভাবে ধস নেমেছে। গ্যাস সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো আংশিক উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছেন শিল্প মালিকরা। গ্যাসচালিত যানবাহনের চালকদের ভোগান্তি বেড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাস নেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের সময় চলে যাচ্ছে। একদিকে যেমন তাদের আয় কমেছে। উল্টো ট্রিপ কমে যাওয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়াও দ্বিগুণ বেড়েছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করছেন। গ্যাসের অভাবে ঢাকার বড় বড় অনেক সিএনজি স্টেশন দিনে বন্ধ থাকছে। রাতে গ্যাস নিতে তিন-চার ঘণ্টা আগে থেকেই চালকদের গ্যাস নেওয়ার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।
বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকটে ভোগান্তি সীমাহীন। নগরীর বেশির ভাগ এলাকায় দিনে গ্যাসের চুলায় রান্না করার মতো চাপ নেই। বাধ্য হয়ে অনেকে বিকল্প হিসেবে মাটির চুলা, গ্যাস সিলিন্ডার এবং ইলেক্ট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন। ঢাকার বিভিন্ন মেসে থাকা শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের হোটেল-রেস্টুরেন্টের খাবার খেতে হচ্ছে। এতে তাদের মাসের খরচ বেড়ে যাচ্ছে, অনেকে বাইরের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। উৎস: বিডি-প্রতিদিন।