মনিরুল ইসলাম: ভারতে অবস্থানরত পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী -কে তে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ।
বুধবার রাতে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা “অত্যন্ত নিন্দনীয়”।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আগেই ভারত সরকারকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্বেগ উপেক্ষা করে এ ধরনের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা ঢাকা গভীর দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাংলাদেশের জনগণ যখন শহীদদের স্মরণ করছে, ঠিক সেই সময় ভারতীয় মাটিতে শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে উপস্থিতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং শহীদদের প্রতি গুরুতর অসম্মান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিশু-সহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড অস্বীকার করে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছেন। তবে বাংলাদেশের জনগণ অতীতের মতো এবারও এমন প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা করবে বলে জানানো হয়।
এতে আরও বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ—বাংলাদেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকারে ফিরে যাবে না এবং কোনোভাবেই অন্য রাষ্ট্রের অধীনস্থ হবে না। একই সঙ্গে বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আর কোনো স্থান নেই।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
তবে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বরং তাকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করা হয়।