মনিরুল ইসলাম : আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক যোগাযোগে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। তবে সম্মেলনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিল্লি যাবেন কি না—সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তার নিজস্ব বিষয় বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
আজ বুধবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী দিল্লি সফরে যাবেন কি না, সেটি সম্পূর্ণ তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।” দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে।
বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি জানান, অত্যন্ত উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক ছাড়াও বাণিজ্য, সংস্কৃতি, এমনকি খেলাধুলা ও ক্রিকেট নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।
এ সময় বাংলাদেশীদের জন্য ভারতের ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়টিও উল্লেখ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
তিনি বলেন, “এটি দুই দেশের জনগণের জন্যই অত্যন্ত সুবিধাজনক। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক—শুধু সীমান্ত নয়, আমাদের রয়েছে অভিন্ন সংস্কৃতি ও স্বপ্ন। আমরা এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই, যা দুই দেশের মানুষের জন্যই কল্যাণকর হবে।
উল্লেখ্য, আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দিতে বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে বাংলাদেশ এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করবে কি না—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফর বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করতে পারে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।