সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন এবং ক্ষতিকর ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় আইনটির কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর অবসর ভবনে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডর্প)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়।
সভায় সমিতির প্রশাসক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণের অঙ্গীকার রয়েছে। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বার্তায়ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
সচিব (অব.) মো. শামসুল আলম খান বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিকোটিন পাউচ, নিকোটিন গ্র্যানুলস এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসের (এইচটিপি) ওপর কর আরোপের ফলে এসব পণ্য বাজারে বৈধতা ও প্রসারের সুযোগ পাচ্ছে। এতে শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সময়োপযোগী নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সমিতির পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি, যা ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে তামাকজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এ খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। এ অবস্থায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের বিস্তার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় বক্তারা ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০২৬) প্রণয়নের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী তামাক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।