শাহাজাদা এমরান, কুমিল্লা : কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার গোলাবাড়ি থেকে গোমতী নদীর পাড়ঘেঁষা বিবির বাজার স্থলবন্দর সংযোগ সড়কটি বর্তমানে অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অন্ধকারের কবলে পড়েছে। সড়কের দুই পাশে গজিয়ে ওঠা আগাছা ও ঘন ঝোপঝাড় দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না করায় সেগুলো মাদক কারবারিদের সম্ভাব্য আড়ালস্থলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অন্যদিকে কয়েক বছর আগে স্থাপিত সোলার স্ট্রিট লাইটের অধিকাংশই অচল কিংবা উধাও হয়ে গেলেও পুনঃস্থাপনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে সন্ধ্যার পর গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি অন্ধকারে ডুবে যায়, বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো সড়কের দুই পাশে বড় বড় আগাছা ও ঘন ঝোপঝাড় ছড়িয়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও ঝোপ এতটাই ঘন যে সহজেই সেখানে বিভিন্ন বস্তু লুকিয়ে রাখা সম্ভব।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে সোলার স্ট্রিট লাইটের খুঁটি থাকলেও অধিকাংশ স্থানে নেই লাইট, ব্যাটারি কিংবা সোলার প্যানেল। ফলে রাত নামলেই পুরো এলাকা অন্ধকারে ছেয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিবির বাজার স্থলবন্দরে যাতায়াতকারী পণ্যবাহী যানবাহন, স্থানীয় পরিবহন ও শত শত মানুষের প্রতিদিনের চলাচলের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে। তাদের দাবি, রাতের বেলায় কিছু অসাধু ব্যক্তি ঝোপঝাড়ের আড়ালে মাদক রেখে পরে সুবিধামতো তা সংগ্রহ করে।
যদিও এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, তবু স্থানীয়রা নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক বলেন, “দ্রুত সড়কের দুই পাশের আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। সোলার লাইট উধাও হওয়ার ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নতুন করে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা এবং মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন।”
আরেক বাসিন্দা কাজী আমান বলেন, “ঝোপঝাড় দ্রুত অপসারণ না করলে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি থেকেই যাবে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে আদর্শ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদকে আগাছা পরিষ্কারের ব্যবস্থা নিতে বলা হবে। তারা অপারগতা জানালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হবে।”
সোলার স্ট্রিট লাইট প্রসঙ্গে তিনি জানান, “লাইট উধাও হওয়ার ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর সংযোগ সড়কের সোলার লাইট উধাও হওয়ার পরও কেন দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত আগাছা অপসারণ, আলোকসজ্জা পুনঃস্থাপন এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে নাগরিক অধিকার ফোরাম কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কুমিল্লার জমিন এর সম্পাদক শাহাজাদা এমরান বলেন, বিবির বাজার স্থলবন্দর সংযোগ সড়কটি কুমিল্লার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের দুই পাশে আগাছা-ঝোপঝাড় এবং অচল সোলার লাইটের কারণে এখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। রাতের অন্ধকারে অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা বাড়ছে। দ্রুত আগাছা পরিষ্কার, সোলার লাইট পুনঃস্থাপন এবং নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে উধাও হওয়া সোলার লাইটের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।