শিরোনাম
◈ দেশের ১৭ জেলায় ঝোড়ো হাওয়া-বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ◈ রেকর্ড গরমে পুড়ছে জাপান, ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়াল তাপমাত্রা ◈ দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটে নাকাল জনজীবন, পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন ◈ সংস্কার না হলে আরও কমতে পারে প্রবৃদ্ধি, সতর্ক করল আইএমএফ ◈ ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অজনপ্রিয় সামরিক অভিযান: সিএনএনের বিশ্লেষণ ◈ এমপি নজরুলের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ধোঁয়াশা, কাজীর বক্তব্যে নতুন বিতর্ক ◈ স্বর্ণ-নগদ টাকা নিয়ে ভাতিজার সঙ্গে উধাও চাচি, থানায় অভিযোগ চাচার ◈ এলএনজি টার্মিনাল বিকল, বেড়েছে গ্যাস সংকট ◈ আইন প্রণয়ন ও কমিটি গঠনে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ টিআইবির ◈ বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ২২ জুলাই, ২০২৬, ০৯:১৮ সকাল
আপডেট : ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটে নাকাল জনজীবন, পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন

রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। এতে শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ঘর-গৃহস্থালিতে রান্নাবান্নায় ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও একেবারে গ্যাস মিলছেই না। পাশাপাশি গ্যাসচালিত যানবাহনগুলো নিয়েও চরম দুর্ভোগের শিকার মালিক-চালকরা। খোদ রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করেও নিম্নচাপের কারণে খুব সামান্যই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের মতে, দেশে এমনিতেই চাহিদার তুলনায় গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ কম। তার ওপর মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের ভোগান্তি আরো বেড়েছে। অনেক এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলছে না। শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানাও প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ না পাওয়ায় উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

এদিকে, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা ও কমিশন বাড়ানোর দাবিতে সিএনজি স্টেশন মালিকরা আল্টিমেটাম দিয়েছেন। শিগগির তাদের দাবি দাওয়া মেনে না নিলে লাগাতার ধর্মঘটেরও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

দেশব্যাপী তীব্র গ্যাস সংকটের বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি। এ চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলছে। তবে এ বিপুল চাহিদার বিপরীতে নিজস্ব উৎপাদন ও আমদানি থেকে জাতীয় গ্রিডে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস ঘাটতি থাকছে। সরবরাহকৃত গ্যাসের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসে ১৭৫ কোটি ঘনফুট আর আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে ৯৫ কোটি ঘনফুট। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নতুন করে এলএনজি সরবরাহ ৪৫ কোটি ঘনফুট কমে গেছে। এতে গ্যাসের সংকট আরো তীব্র হয়েছে।

গ্যাস সংকটের বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের স্বল্পচাপের মুখে থাকবেন। একই সঙ্গে অন্যান্য গ্যাস বিতরণ কোম্পানির গ্রাহকরাও সরবরাহ সংকটে পড়েছেন।

তিতাসের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এ দুটি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক সর্বোচ্চ প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে সেখান থেকে গড়ে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ টার্মিনাল থেকে সরবরাহ অর্ধেক কমে যাওয়ায় সবাই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরববরাহ কম থাকায় গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধানে কাজ চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই জাতীয় গ্রিডে আগের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হবে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গ্যাসের চাপ না থাকায় ঢাকার অনেক এলাকায় রান্নাবান্না নিয়ে গৃহিণীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। গভীর রাতেও অনেকের বাসাবাড়িতে আগুন জ্বালানোর মতো গ্যাস আসছে না। হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও দিনের বেলায় বিকল্প উপায়ে রান্নাবান্না করতে হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতেও গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উদ্যোক্তা ও মালিকদের। এতে উৎপাদন কমে গেছে এবং রপ্তানিমুখী শিল্প হুমকিতে পড়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

শান্তিনগর বাজার রোড এলাকার বাসিন্দা মমতাজ বেগম জানান, তাদের এলাকায় কিছুদিন ধরে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে। সকাল ৭টায় নাস্তা তৈরি করতে চুলার কাছে গিয়ে দেখি গ্যাস নেই। ৩টার পর কিছু গ্যাস আসলে দুপুরের রান্নাবান্না করি। বিকাল থেকে আবার রাত ১২টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। মধ্যরাতে গিয়ে রাতের রান্নাবান্না করতে হয়। এতে অনেকটা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানান তিনি।

মিরপুর-২ এলাকার বাসিন্দা বশিরউদ্দিন আহমেদ আমার দেশকে বলেন, আমাদের এলাকায় সকাল থেকে রাত ৯/১০টা পর্যন্ত চুলায় গ্যাস থাকে না। ভোরে কিংবা রাতে দুই বেলার রান্না একবারে করতে হয়। মাঝেমাঝে রাইস কুকারে ভাত রান্না করে ইলেক্ট্রিক চুলায় কোনো রকমে ডিম ভেজে খাওয়া-দাওয়া সারছি।

দ্রুত কমছে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত ও উৎপাদন

বর্তমান গ্যাস সংকটের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন না করাকে দায়ী করছেন বর্তমান সরকারের নীতি নির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা। হাইড্রোকার্বন ইউনিটের দেওয়া তথ্যমতে, দেশে মোট গ্যাসের মজুত ৪০ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের (টিসিএফ) মতো। এর মধ্যে উত্তোলনযোগ্য মজুতের পরিমাণ ২৮ দশমিক ৬২ টিসিএফ। এ পর্যন্ত ২৩ দশমিক ১২ টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। চাহিদা ও উত্তোলনের বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে নতুন গ্যাস যোগ না হওয়ায় মজুত দ্রুত কমে আসছে।

কিছু কিছু গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলেও নানান জটিলতায় তা আশানুরূপভাবে গ্রিডে যোগ হচ্ছে না। নতুন গ্যাস উত্তোলন না হলে আগামী ১০-১১ বছরের মধ্যে মজুত শেষ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। তবে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে এবং সীমিত আকারে তা জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। যদিও পরিসংখ্যানে এখনো তা আসেনি। কারণ, গত ১৬ বছরে গ্যাসের মজুত নিয়ে কোনো সমীক্ষা চালানো হয়নি। ফলে এ বিষয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে।

পেট্রোবাংলার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি সব গ্যাসক্ষেত্র থেকে এক হাজার ৯১১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হয়েছে।

১৫ ফেব্রুয়ারি তা কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে। পনেরো দিনের ব্যবধানে গ্যাসের উৎপাদন কমেছে ৪১ মিলিয়ন ঘনফুট। হাইড্রোকার্বন ইউনিটের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, শুরুতে হবিগঞ্জের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের প্রাথমিক মজুত ধরা হয়েছিল আট হাজার ৩৮৩ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ), যাতে উত্তোলনযোগ্য মজুত ছিল পাঁচ হাজার ৭৫৫ বিসিএফ। ইতোমধ্যেই ছয় হাজারের বেশি বিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে এখান থেকে। উন্নয়নের ফলে এখানে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত কিছুটা বাড়ছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ গ্যাসক্ষেত্রটিসহ এ অঞ্চলের তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন। শেভরনের অপর দুটি গ্যাসক্ষেত্রের মজুতও এখন শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স), বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) ও সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড (এসজিএফএল) পরিচালিত গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে গ্যাস উৎপাদনও কমে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে আবিষ্কৃত ২৯টি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে ২০টি থেকে মজুতকৃত উত্তোলন শেষে যা অবশিষ্ট রয়েছে, তা খুব বেশিদিন উত্তোলন করা যাবে না। ফলে দ্রুত গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে বলেও জানান কর্মকর্তারা। এ জন্য সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কথাও জানান তারা।

সংকটের মূলে এলএনজি আমদানিনির্ভরতা

বিগত সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে দেশে নতুন করে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে উচ্চমূল্যের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে বেশি আগ্রহ দেখায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ঘাটতি চাহিদা মেটাতে নিজেদের সার্বভৌম সম্পদ উত্তোলনের ব্যবস্থা না করে আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়ায় দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে অর্থনীতি ও বাণিজ্য খাত।

২০১৭ সালের আগ পর্যন্ত দেশে কোনো গ্যাস আমদানি করতে হয়নি। ২০১৮ সাল থেকে ঘাটতি পূরণে শুরু হয় এলএনজি আমদানি। গত সাত বছরে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে পেট্রোবাংলা এক লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করে এখন লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের অফশোর ও অনশোরে নতুন কূপ খননের পরামর্শ দিলেও সরকার এলএনজি আমদানিতেই বেশি আগ্রহ দেখায়। বাংলাদেশ মিয়ানমারের কাছ থেকে ২০১২ সালে ও ভারতের কাছ থেকে ২০১৪ সালে বঙ্গোপসাগরের অংশ বুঝে নিলেও সেখানে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। যদিও মিয়ানমার তাদের সমুদ্র এলাকায় গ্যাস পেয়েছে। বাংলাদেশ সেখানে অনুসন্ধানের উদ্যোগ না নিয়ে এলএনজি আমদানিতেই বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে। এক্ষেত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে দেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্রের আবিষ্কার না করে আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়েন।

বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানিকে দায়ী করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশে উৎপাদিত স্বল্পমূল্যের প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানি করতে গিয়ে মূলত দেশের জ্বালানি খাতটির অবস্থা এখন টালমাটাল। এখন অর্থের অভাবে আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার অর্থের জোগান হলেও টার্মিনালের ক্যাপাসিটির কারণে তা খালাস করে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হবে না।

দেশের গ্যাস সংকটের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের ভুলনীতি ও আমদানিনির্ভরতাকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, দেশে গ্যাসের অনুসন্ধান না করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে আমদানি করেছে। এতে দেশের বিপুল অর্থ লোপাটের পাশাপাশি জ্বালানি খাতও ঝুঁকিতে পড়েছে। এর খেসারত এখন দেশবাসীকে দিতে হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উদ্যোগের বর্ণনা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপর জ্বালানি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেশে নতুন গ্যাস কূপের অনুসন্ধান ও বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এর ফল পেতে আমাদের আরো কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে।

দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে বলছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক এবং জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, জ্বালানির আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনতে হবে দ্রুত। নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদনের দিকে নজর দেওয়ার পাশাপাশি দক্ষতা বাড়াতে হবে। যদিও এর ফল পেতে কিছুটা বিলম্ব হবে, তারপরেও বসে থাকার সুযোগ নেই। যেসব খাতে দুর্নীতি হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ, বিগত সরকার দেশে জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা না বাড়িয়ে প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর করেছে শুধুমাত্র লুটপাটের উদ্দেশ্যে। বর্তমান সরকারকে এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

দেশের স্থলভাগে, গভীর সমুদ্রে ও অগভীর সমুদ্রে দ্রুত গ্যাস অনুসন্ধানে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ তিনি আরো বলেন, এটা পরিষ্কার, বিগত সরকার তাদের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য অতি উচ্চমূল্যের এলএনজি ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছে। নিজস্ব জ্বালানির ব্যবস্থা না করে জাতীয় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে গোটা খাতটিকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নিয়ে গেছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে এলএনজি আমদানি কমিয়ে দেশে গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়াতে জোরদার পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি জ্বালানি দক্ষতাও বাড়াতে হবে।

সূত্র: আমার দেশ 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়