মনিরুল ইসলাম: বৃষ্টিতে চুইয়ে পড়া পানিতে নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন-এর বিভিন্ন অংশে। এমনকি পবিত্র মসজিদ ও গুরুত্বপূর্ণ কক্ষগুলোতেও পানি পড়ার ঘটনায় সংসদে ক্ষোভ, উদ্বেগ ও কিছুটা হাস্যরসেরও জন্ম হয়েছে।
আজ সোমবার সংসদের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন সরকারি দলের হুইপ জি কে গউছ। তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংসদে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন হলেও, যেখানে সংসদ সদস্যরা অধিবেশন করেন তার ঠিক ওপরেই থাকা মসজিদের এমন বেহাল অবস্থা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি জানান, মসজিদের ভেতরে ছাদ ফেটে বৃষ্টির পানি পড়ছে, আর তা ঠেকাতে সারিবদ্ধভাবে বালতি বসানো হয়েছে। তার ভাষায়, “যেখানে আমরা ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট পাস করি, সেখানে মসজিদের এই অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
হুইপের বক্তব্যের জবাবে ডেপুটি স্পিকার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন। তবে গম্ভীর আলোচনার মাঝেই তিনি এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে পুরো সংসদে খানিকটা হাস্যরসের সৃষ্টি করেন। তিনি বলেন, শুধু সংসদ ভবন নয়—বৃষ্টির দিনে তার নিজের ঘরের ছাদ থেকেও পানি পড়ে। এমনকি ঘুমাতে গেলে তাকে ঘরের ভেতর বাটি রেখে পানি আটকাতে হয়।
ডেপুটি স্পিকারের এই বক্তব্যে একদিকে যেমন সমস্যার গভীরতা ফুটে ওঠে, অন্যদিকে সংসদ কক্ষে সৃষ্টি হয় হালকা হাস্যরসাত্মক পরিবেশ।
এ সময় সংসদ কার্য পরিচালনাকারী চিফ হুইপ জানান, বিষয়টি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-এর আওতাধীন এবং ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভবনের যেসব অংশে পানি পড়ছে, সেগুলোর মেরামত কাজ শুরু হয়েছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরে ডেপুটি স্পিকার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। জবাবে মন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, ছাদ সংস্কারে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং খুব শিগগিরই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।
সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এমন পরিস্থিতি জনমনে প্রশ্ন তুললেও, সংশ্লিষ্টদের আশ্বাস—দ্রুতই মিলবে এর স্থায়ী সমাধান।