মোস্তাক আহমেদ মনির, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রবল বর্ষণের ফলে পানির জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ ও পুরো মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ সময় জমে থাকা দুষিত পানিতে ভিজে স্কুলে যাতায়াত করতে হয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ীর পৌর এলাকার গণময়দান মাঠে অবস্থিত ৫৫ নং সরিষাবাড়ী বালিকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত কয়েকদিনের অতিবৃষ্টির কারনে গণময়দান মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসা যাওয়ায় চরম ভোগান্তি ও দূর্ভোগে পড়েছেন। জমে থাকা দূষিত হাটু পানিতে ভিজে স্কুলে আসতে হয়। এতে করে অনেকে পানিতে পিছলে পড়ে স্কুল ড্রেস ও বই ভিজে যায়। ইতিমধ্যেই অনেক শিক্ষার্থী জ্বর, ঠান্ডা ও চুলকানীতে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও দূষিত পানিতে ভিজে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়।
শিক্ষার্থী আরিফ, হাসান, মিম, তাহিরাসহ একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের প্রতিদিন জুতা খুলে হাতে নিয়ে মাঠে জমে থাকা দূষিত পানিতে ভিজে স্কুলে আসতে হয়। আমাদের শ্রেণিকক্ষে পানি থাকার কারনে পড়ালেখা করতে পারি না। অন্য রুমে গিয়ে আরেক ক্লাসের শিক্ষার্থীদের সাথে বসতে হয়। ফলে আমাদের পড়ালেখা হয় না। পানিতে হেটে স্কুলে আসার কারনে পায়ে ঘা হচ্ছে, আর শরীর চুলকাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সালেহা খাতুন বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতিতে প্রভাব পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ঠান্ডা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আসতে পারছে না এবং যারা আসছে তারাও কষ্ট করে পানি পেরিয়ে স্কুলে আসছে। অনেক সময় পানিতে পড়ে বই ও স্কুল ড্রেস ভিজে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করছে। তাদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং তারা তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা অর্জন করতে পারছে না। দুষিত পানি রোগজীবাণু দ্রুত ছড়ায়, যা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন করতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা বলেন, স্কুল মাঠের জলাবদ্ধতার ঘটনাটি দুঃখজনক। ইতিমধ্যেই বিষয়টি জানার পর বিদ্যালয় মাঠ থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং শিক্ষার্থীরা আবার তাদের শিক্ষাজীবন স্বাভাবিকভাবে শুরু করতে পারবে।