শিরোনাম
◈ মগবাজার পেয়ারাবাগে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও চার লেন রেলপথের কাজ চলতে বাধা নেই ◈ মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস ◈ ইসরায়েলে ইনটেলের সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় বিস্ফোরণ, ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ◈ স্কুলে ভর্তিতে বয়স নির্ধারণ, কোন শ্রেণিতে কত বছর হতে হবে যা জানাগেল ◈ কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর-হামলা ◈ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দুদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ◈ এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ইতালি, বাংলাদেশে গড়তে চায় এমআরও হাব ◈ রাশিয়ার পর বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের নজর ◈ বুক কাঁপছে আতঙ্কে, তবু থামছে না জীবিকার লড়াই : জীবিকার টানে সৌদি ফিরছেন প্রবাসীরা ◈ রাত গভীর হলেই বাড়ে বিদ্যুতের চাহিদা, ৩ হাজার মেগাওয়াট যাচ্ছে কোথায়?

প্রকাশিত : ১৩ জুলাই, ২০২৬, ০৯:০৭ রাত
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মৌলভীবাজারে কমছে বন্যার দুর্ভোগ, বাড়ছে ডায়রিয়া-চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা

মোঃ জালাল উদ্দিন, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। গত শনিবার রাত থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়া এবং উজান থেকে নতুন করে ঢল না নামায় জেলার মনু, ধলাই, জুড়ী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদীতীরবর্তী এলাকায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। তবে বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের সংকটে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে জেলা সদর, রাজনগর, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। প্রায় দুই হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেন। বর্তমানে পানি কমতে শুরু করায় অনেকেই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরলেও নিচু এলাকায় এখনো পানি জমে রয়েছে এবং জনদুর্ভোগ পুরোপুরি কাটেনি।

রোববার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক স্থানে এখনো কাদা ও দূষিত পানিতে পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে আছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটে বাধ্য হয়ে অনেকেই দূষিত পানি ব্যবহার করছেন। ফলে ডায়রিয়া, আমাশয় (ডিসেন্ট্রি), সর্দি-জ্বর, চর্মরোগ ও অ্যালার্জিসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু, নারী ও বয়স্কসহ সব বয়সী মানুষ।

রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের বাসিন্দা জুয়েল মিয়া, মতিন মিয়া ও ছাদিক মিয়া বলেন, “দুই দিন ঘরবাড়ি পানির নিচে ছিল। শনিবার রাতে পানি নামতে শুরু করেছে। কিন্তু পানি কমার পর পরিবারের অনেকেই জ্বর, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।”

Advertisement

এদিকে কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলার দুটি স্থানে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করা পানিও ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে নিচু এলাকার পানি পুরোপুরি সরে যেতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উজানে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আপাতত নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও কমেছে।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, “বন্যাকবলিত এলাকায় মেডিকেল টিম কাজ করছে। পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত রয়েছে। কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।”

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, “বন্যার্তদের জন্য সরকারিভাবে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত ৯০ মেট্রিক টন চাল, শুকনো খাবার, নগদ অর্থসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি এলাকায় মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়।”

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে পানি নামার পর যাতে পানিবাহিত রোগ ব্যাপক আকার ধারণ না করে, সে জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

  • সর্বশেষ