শিরোনাম
◈ পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনী প্রচারে ‘বাংলাদেশ কার্ড’ যেভাবে ব্যবহার করল বিজেপি! ◈ আইপিএলের দল রাজস্থান রয়্যালসের মালিকানা নিয়ে উঠলো বিতর্ক  ◈ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগ সংঘবদ্ধ হচ্ছে, গুজব ছড়িয়ে ছাত্রদল-শিবিরের মধ্যে দ্বন্দ্বের চেষ্টা ◈ চীন ও ভারতের ফুটবল প্রেমীরা বিশ্বকাপ দেখ‌তে পা‌বেন না! সম্প্রচার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা  ◈ টানা ৫ দফা কমার পর দেশের বাজারে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম ◈ টিকিটের জন্য পাঁচ কোটি টাকা চেয়েছিল, তৃণমূল ছাড়ার ঘোষণা সা‌বেক ক্রিকেটার ম‌নোজ তিওয়ারির ◈ পাকিস্তান সিরিজে টি‌কিট ছাড়াই খেলা দেখতে পারবে শিক্ষার্থীরা ◈ সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন তেল নিয়ে জাহাজ পৌঁছাল, সচল হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি ◈ ৬ হাজার কিমি পাল্লার প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করে বিশ্বকে তাকে লাগিয়ে দিল তুরস্ক ◈ লিমন-বৃষ্টির সম্মানে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিচ্ছে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত : ০৬ মে, ২০২৬, ০৯:৩৯ সকাল
আপডেট : ০৬ মে, ২০২৬, ১২:৩১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মমতার পরাজয় বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের জন্য ‘চরম বার্তা’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভার নির্বাচনী ফলাফল সারাবিশ্বের ক্ষমতাসীন দলের নীতি নির্ধারকদের নতুন বার্তা দিল। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের জন্য এটা চরম বার্তা। সারা ভারত কাঁপানো নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনে ফের ক্ষমতায় আসবে এটা প্রায় ছিল নিশ্চিত। গণমাধ্যম সে খবর দিচ্ছিল। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের সিনিয়র ও অভিজ্ঞ নেতাদের ‘সাইড লাইনে’ রেখে কেবল তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পাড় হওয়ার কৌশল নেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। ফলে তাকে বিজেপির গেরুয়া শিবিরের হতে হলো।

নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মমতা কেবল তরুণ নেতাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। নির্বাচনে দলীয় নমিনেশনে সেটাই করেছিলেন। প্রবীণ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নেতাদের সাইড লাইনে রাখায় তারা এবারের নির্বাচনে ভূমিকা রাখেননি এবং রাখতে পারেননি। কেবল তরুণদের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক নেতাদের অভিজ্ঞতা-মেধা ও পরামর্শের সমন্বয় ঘটালে বিজেপির পদ্মফুল ঝড়ে তৃণমূল ভেসে যেতে হতো না। ‘ধারে কাটে আর ভারে কাটে’ সমাজে এমন একটি প্রবাদে চালু রয়েছে। প্রবাদটির অর্থ হলো, দুই উপায়ে সাফল্য আসে, হয় অত্যন্ত ধারালো অস্ত্রে (ধারে), নাহলে অস্ত্রের ওজন বা ভারী চাপে (ভারে) কাটা যায়। রাজনীতিতে ধারে তথা ডিজিটাল যুগে তরুণদের তারুণ্য আর ‘ভারে’ বয়স্ক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নেতাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে সাফল্য আসে। রাজনীতিতে ধার তারুণ্য আর ভার ব্যক্তিত্বসম্পন্ন অভিজ্ঞ নেতৃত্বে সমন্বয় ঘটালে সাফল্যটা ধরা দেয়।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির চিত্র বিশ্লেষক করে দেখা যায়, মমতা বন্দোপাধ্যায় ভাতিজা অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রবীণ নেতা ও সাবেক এমপিদের দূরে ঠেলে দিয়ে তরুণ নেতাদের পরামর্শে বেশির ভাগ আসনে প্রার্থী করেন সিনেমার নায়ক-নায়িকা ও বয়সে তরুণদের। তরুণ নেতারা মেধাবী ও যুগের সঙ্গে তালমিলিয়ে চলতে শিখলেও নির্বাচনী কর্মকৌশলে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা বেশি। তাদের অভিজ্ঞতা ও চিন্তাকে কাজে লাগানো হয়নি। আবার মূল নেত্রীর অবজ্ঞার কারণে অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতারা নির্বাচনের সময় তৃণমূল থেকে দূরে ছিলেন। অথচ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজয় নিশ্চিত করতে প্রবীণ ও তরুণের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহসহ বিজেপির সিনিয়র নেতারা গেরুয়া শিবিরে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। অন্য দল থেকে সিনিয়র নেতাদের প্রার্থী করেছেন। হিন্দুত্ববাদী চেতনায় বিশ্বাসী দলটির প্রার্থী মনোনয়নেও প্রবীণ-নবীনের সমন্বয় ঘটানোয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় পেয়েছেন।

বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপির কর্মকা-ে অনেকটা পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের মতোই প্রবীণদের ‘সাইড লাইনে’ রাখা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি দলটির বিজয়ের পর মন্ত্রিসভা গঠন এবং সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রবীণদের উপেক্ষা করা হয়েছে। কাজে অনভিজ্ঞ তরুণ নেতারা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে ‘কাজ শিখছেন’ বটে; আমলাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। যার কারণে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকার পরও ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পরও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসছে না। এমনকি আইএমএফের ঋণের কিস্তি স্থগিত হয়ে যায়।

অন্যদিকে বয়সে প্রবীণ দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদের বিএনপি সাইড লাইনে রাখায় তাদের কেউ কেউ হতাশায় ভুগছেন। ১৯ বছর ক্ষমতার বাইরে এবং রাজপথে থাকা প্রবীণ নেতাদের যখন মেধা-অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সময়; তখন তাদের সাইড লাইনে ঠেলে দেয়া হয়েছে অনেকটা মমতার তৃণমূলের মতোই। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপি হয়েছেন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছেন এমন অনেক নেতাকে বিএনপির নেতারাও চেনেন না। দলের সঙ্গে নেই তাদের কোনো সম্পর্ক। সম্প্রতি বিএনপির প্রশাসনে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিনিয়র নেতাদের একজন তার চেয়ে কমবয়সী এক নেতার কাছে দুঃখ করে বলেছেন, ‘এতোদিন পর বুঝতে পারলাম আমি বোধহয় বিএনপির রাজনীতি করে ভুল করেছি’।

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাও ক্ষমতার শেষ দিকে তোফায়েল আহমদ, আমির হোসেন আমুর মতো প্রবীণ অভিজ্ঞ নেতাদের সাইড লাইনে রেখে মো: আরাফাত, জানায়েদ আহমদ পলক, মুহিবুল হাসান চৌধুরী রওফেলের মতো অনভিজ্ঞ তরুণদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। তাদের পরামর্শে জুলাই আন্দোলন ঠেকাতে ইন্টারনেট বন্ধ, পুলিশ-র‌্যাব-বিজেবিকে গুলির নির্দেশ দিয়ে মানুষ মেরে ঢাকার রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করেন। পুলিশের গুলিতে শত শত শিক্ষার্থীর মারা যাওয়া নিয়ে দুঃখ না করে ক্ষতিগ্রস্ত মেট্রোরেলের রেলিং ধরে আহাজারি করেন। সে খেসারত দিয়ে তাকে দেশ থেকে পালাতে হয়েছে।

প্রবাদে রয়েছে ‘পুরান চাল ভাতে বাড়ে’। অভিজ্ঞ বা বয়স্ক ব্যক্তির অভিজ্ঞতার মূল্য নতুনদের তুলনায় বেশি। চীন ও জাপানের সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে অভিজ্ঞ ও মেধাসম্পন্ন বয়স্ক মানুষের মেধাকে কাজে লাগানো। জাপানের মানুষ এমনিতেই দীর্ঘায়ু। দেশটি প্রবীণ অভিজ্ঞদের মেধা কাজে লাগাতে ভুল করে না। আবার জাপানের প্রবীণ অভিজ্ঞ মেধাবীদের কাজে লাগিয়ে চীন সাফল্যে শিখরে পৌঁছে গেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে সেটা ভাবতে হবে। মনে রাখতে হবে বিজেপি যে কৌশলে পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতি করে; বাংলাদেশেও জামায়াত সেই স্টাইলে রাজনীতি করছে। ফলে মমতার মতো তৃণমূলের প্রবীণ নেতাদের সাইড লাইনে রেখে অনভিজ্ঞ নতুনদের ওপর ভর করে দল ও সরকার চালানোর সিদ্ধান্ত মারাত্মক ভুল। এমন চলতে থাকলে বিজেপির মতোই দেশে জামায়াতও আগামী স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপিকে ধরাসায়ী করে ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হলে অনভিজ্ঞ তরুণরা দলকে রক্ষা করতে পারবে না; যেমনটা পারেনি পশ্চিমবঙ্গে মমতার তৃণমূলের অভিষেকরা। সময় থাকতে কম অভিজ্ঞতার তরুণ্যের সঙ্গে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রবীণদের সমন্বয় ঘটিয়ে দল ও সরকারকে এগিয়ে নেয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র: ইনকিলাব 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়