শিরোনাম
◈ অর্থের উৎস নিয়ে বিতর্ক, স্থগিত ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রামমূর্তি নির্মাণ ◈ তৃতীয় ভাষা শিখলে মিলবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ ◈ নতুন বাজেটে কোন ব্র্যান্ডের সিগারেটের দাম কত? ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে বাংলা‌দে‌শের টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা ◈ দিল্লির শীর্ষ বৈঠকেও ‘পুশ-ইন’ সংকটের সমাধান মিলল না ◈ ভাইকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সেই বৃদ্ধ ষষ্ঠী বর্মন, ভারতে গেলেন যেভাবে ◈ মাথায় ব‌লের আঘাত, হাসপাতালে মে‌হে‌দি মিরাজ ◈ অস্ট্রেলিয়ার বিরু‌দ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন ◈ বাজেটের আকারে এগোচ্ছে বাংলাদেশ, ছাড়িয়ে গেছে কয়েকটি ধনী দেশকে ◈ অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার সিরিজে হারাল বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২১ রাত
আপডেট : ১০ জুন, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

সংসদে জনগণের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে হবে, মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে হবে: তারেক রহমান

মনিরুল ইসলাম: সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলিয়েই সংসদ, এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক করে অসুস্থ শিশুর মায়ের কষ্ট দূর করা যাবে না। তাই সংসদে জনগণের বাস্তব সমস্যা নিয়ে কথা বলতে হবে এবং মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদকে অকার্যকর করে এমন কোনো কথা বা কাজ করা উচিত নয়। যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমেই দেশের স্বার্থে সমাধান বের করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির একটি বড় অংশ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার ও বিরোধী দলের লক্ষ্য এক—বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন, একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও আত্মনির্ভরশীল দেশ গঠন।

সংসদীয় গণতন্ত্রে মতভিন্নতা স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা ‘এগ্রি টু ডিজএগ্রি’—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিতর্ক থাকবে, কিন্তু তা যেন দেশের অগ্রগতির পথে বাধা না হয়।

বিরোধী দলের সঙ্গে সহযোগিতার প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিভিন্ন সময় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দলকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং সেই প্রস্তাব এখনও খোলা রয়েছে। এছাড়া জ্বালানি সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাধারণ মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান চায়—এটাই বাস্তবতা।

তিনি বলেন, “ইতিহাসের বিতর্ক দিয়ে বেকার যুবকের চাকরি হবে না, কৃষকের ক্ষতি পূরণ হবে না, কিংবা অসুস্থ শিশুর চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাবে না।” তাই বাস্তব সমস্যার সমাধানেই গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দায়িত্বের আসনে বসা সহজ মনে হলেও বাস্তবে তা কঠিন। জনপ্রিয়তার জন্য নয়, বরং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই একজন রাজনীতিবিদের দায়িত্ব।

দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার ও বিরোধী দলের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কেউ ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে। তাই কাউকে ব্যর্থ করার রাজনীতি নয়, বরং একসাথে কাজ করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।”

অতীতে দীর্ঘ হরতালের কারণে দেশের ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংঘাতের মাশুল জনগণকেই দিতে হয়। তাই সংসদকে কার্যকর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের দেওয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং সংসদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়