মিজান লিটন : চাঁদপুরে ৮ মাসের কন্যা সন্তানকে বিক্রি করে চুরির নাটক সাজান এক গর্ভধারীনি মা।পরে সংবাদটি মিডিয়া প্রচার হলে,আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে। ঘটনাটি ঘটে ৫ নং ওয়ার্ড রঘুনাথপুর ভাঙ্গারপুল এলাকার লিটনের স্ত্রী শিউলি বেগম এ গঠনা ঘটায়।
জানা যায়,বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে শিউলি বেগম তার বাবার বাড়ী শহরের ১২ নং ওয়ার্ডের দর্জিঘাট এলাকা থেকে ৮ মাসের কন্যা লামিহা কে নিয়ে স্বামীর বাড়ী যাওয়ার পথে শহরের মিশন রোড এলাকার অটোরিকশায় থাকা এক মহিলা তাকে অচেতন করে তার কোলে থাকা শিশুটি ও তার সাথে থাকা ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরে তার জ্ঞান ফিরে আসলে সে দেখে তার সন্তান তার কাছে নেই। তাকে রাস্তার পাশে অটো চালক ফেলে রেখে যায়।
সে কন্নাকাটি শুরু করলে পার্শ্ববর্তী লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যায়। শিউলি বেগম এমন কথা বলে একটি নাটক সাজিয়ে সংবাদ কর্মীদের কাছে প্রকাশ করে। পরে বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে মিডিয়া প্রকাশ হলে একদিন পরেই মূল ঘটনা বেরিয়ে আসে।
শাহতলি ভাটেরগাও এলাকার ইয়াসিন আক্তার (কামরুল)ও জেসমিন নামের এক দম্পতি দীর্ঘদিন নিঃসন্তান থাকায় শিউলি বেগমের কাছ থেকে আলাপ আলোচনা করে আদালতের মাধ্যমে (এবি ডিবিট) করে ত্রিশ হাজার টাকার বিনিময়ে এই সন্তানটি দত্তক নেয়। পরে মানুষ জানাজানি হবে বলে মা-শিউলি বেগম এই নাটকটি সাজায়। কিন্তু ক্রেতা ইয়াসিন এ বিষয়ে কিছুই জানতো না।
পরে সে সংবাদটি দেখে নিজ উদ্যোগে চাঁদপুর মডেল থানায় এসে বিষয়টি অফিসার ইনচার্জ ফয়েজ আহমেদকে অবহিত করেন। বিষয়টির সত্যতা জানতে শনিবার (১ আগস্ট)এই কন্যা সন্তানটির বাবার বাড়িতে গিয়ে বাবা লিটন ও এলাকাবাসী কাছে জানতে চাইলে তারা প্রকৃত ঘটনা জানান, এই বিষয়ে শিশুটির বাবা লিটন জানান,সে এ বিষয়ে কিছুই জানে না।যা করেছে তার স্ত্রী শিউলি বেগম নিজেই করেছে,সে সম্পূর্ণ দোষ তার স্ত্রীর উপর চাপিয়ে দেয়। পরে এসে জানিয়েছে যে অটো রিক্সায় করে বাড়ীতে আসার পথে তাকে অচেতন করে তার কোল থেকে ৮ মাসের কন্যা লামিহাকে নিয়ে যায়।
এলাকাবাসী জানায় তখনই বিষয়টি আমাদের সন্দেহ হয়েছে।এ বিষয়ে তারা বলেন, বাচ্চাটি চুরি হয়নি তার মা-ই বিক্রি করে ফেলেছে। সন্তানটির বাবা লিটনের একই বক্তব্য আমাকে না জানিয়ে আমার স্ত্রী এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানায় একটি মা কত জঘন্য খারাপ হলে নিজ শিশু সন্তানকে অন্যত্র বিক্রি করতে পারে আমরা এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
এটি কোন ভাবেই ছাড় দেওয়া যায় না, কারণ ভবিষ্যতে এই মহিলা আমাদের সন্তানকে ও অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করতে পারে। যার কাছে নিজের সন্তান নিরাপদ নয় তার কাছে অন্যের সন্তান কিভাবে নিরাপদ হয়।
এ বিষয়ে শিশুটির নানির সাথে আলাপকালে তিনি জানান,আমার মেয়ে অন্যায় করেছে তার স্বামী বেকার কোন কাজ কার্ম করে না।মনে হয় অভাবের তাড়নায় এই ঘটনাটি ঘটেছে এছাড়াও তার আরো ৩টি কন্যা সন্তান রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানতাম না। সে আমাদেরকে কিছুই জানায়নি সে বলেছে তার সন্তান অটো থেকে চুরি করে নিয়ে যায়। আমরা এখন টাকা জোগাড় করে সন্তানটি নিয়ে আসবো। প্রয়োজনে হলে আমরা লালন পালন করব। আমি আমার মেয়ের এই অপকর্মের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাই। শিশুটির মা তখন সংবাদ কর্মীদেরকে দেখে অন্যত্র সরে থাকে তাই তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ ফয়েজ আহমেদ জানান,শিশুটির মা-শিউলি ও বাবা লিটন উভয়ের সম্মতিতেই জেসমিন ও কামরুল নামের এক দম্পতি আদালতের মাধ্যমে এবিডেভিট করে বাচ্চাটিকে দত্তক নেয়। এখন ওই দম্পতির কাছেই বাচ্চাটি নিরাপদেই আছে।
তারা বিষয়টি মিডিয়ায় মাধ্যমে দেখে আমাকে এর একটি কাগজ দেখিয়ে যায় এবং প্রকৃত ঘটনাটি জানিয়ে যায়। এখন বিষয়টি তাদের দুই পরিবারের ও আদালতের বিষয়। বিষয়টি নিয়ে পুরো শহর জুড়ে একটি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে।
এ বিষয়ে সাধারণ জনগণ জানান, সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসছে শিশুটিকে চুরি করা হয়নি মা-বাবার স্ব-ইচ্ছাই একটি পরিবারের কাছে দত্তক দেয়া হয়েছে কিন্তু তারা এই বিষয়টি আড়াল করতে চুরির ঘটনাটি সাজিয়েছিল।