মনিরুল ইসলাম : নিজের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা জাতীয় সংসদে তুলে ধরে নিজের ও দলীয় নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা চেয়েছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা। জবাবে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিষয়টিকে দুঃখজনক মন্তব্য করে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আজ রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ সব কথা বলেন তারা। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি উত্থাপন করেন মাছুম মোস্তফা। জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঘটনাটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের সংসদ নেতা পাশেই বসে আছেন। তিনি আমাকে বলেছেন, তিনি নিশ্চিত করবেন যেন, এটা সুষ্ঠু একটি তদন্ত হয়। প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের পূর্বধলার আতকাপাড়া এলাকায় গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সংসদে তুলে ধরে তিনি বলেন, কাজ শেষ করে ফেরার সময় আমি একটি ফিলিং স্টেশনে গাড়ির ভিড় দেখতে পাই। তখন আমি সেখানে দাঁড়ালাম। গাড়ি রেখে আমি উপস্থিত সকলের খোঁজখবর নিলাম। ইতিমধ্যেই মাগরিবের আজান হয়। ফিলিং স্টেশনে নামাজের জায়গায় নামাজ পড়তে যাই। এই মুহূর্তে বিএনপির নাম ধারণ করা সন্ত্রাসীরা আমার গাড়ির ওপর হামলা চালায়। আমার লোকজনদের ওপর হামলা করে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। আমি যে মসজিদে ছিলাম সেই মসজিদে গিয়ে আমাকে খুঁজে বের করার জন্য চেষ্টা করে। মুসল্লিরা মসজিদের দরজা বন্ধ করে দেন। সেই মসজিদের দরজা ভাঙার জন্য বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে তারা দরজার ওপর আঘাত করে এবং আমাকে গালিগালাজ করে আমাকে মারার জন্য হুমকি দেয় এবং তারা আমাকে মেরে ফেলার জন্য চেষ্টা করে।
নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মাছুম মোস্তফা বলেন, আমি শুনতে পাই যে, সেখানে পেশাদার কিলার দেওয়া হয়েছিল। যাতে আমাকে হত্যা করা হয়। মসজিদের মুসল্লিদের প্রতিরোধের মুখে তারা দরজা ভাঙতে পারে নাই বলে আজকে আপনার সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়েছে। নাহলে হয়তো আজকে আমার জন্য এখানে শোকপ্রস্তাব আনতে হতো। তিনি বলেন, আমি আমার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দলের কর্মীদের নিরাপত্তা চাই।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি পত্রিকায় দেখেছেন। এটা দুঃখজনক। এ ঘটনায় নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জবাবে মাছুম মোস্তফা বলেন, পুলিশ যাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে তাদের মধ্যে একজন শুধু তালিকাভুক্ত আসামি। বাকিরা নিরপরাধ। ৯জন জামিনে চলে এসেছে। আর যারা আসামি ছিলেন তারা সবাই মিছিল করছে। আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান তিনি।