শিরোনাম
◈ জনসভার আগে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তারেক রহমান ◈ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি সাম‌রিক ক্ষমতা কোনও রসিকতা নয়: ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক ◈ রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে বা‌র্সেলোনার মেয়েরাও জিতল স্প‌্যা‌নিশ সুপার কাপ ◈ সারা দেশে বইছে নির্বাচনী হওয়া, তরুণরাই এবারের নির্বাচনে ভাগ্য নির্ধারণ করবে ◈ আবু সাঈদ হত্যা মামলা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ তৃতীয় দিনের যুক্তিতর্ক ◈ রামুতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিশালাকৃতির ‘বোমা’ উদ্ধার: ১০ বছর ধরে ব্যবহৃত হতো কাপড় ধোয়ার কাজে ◈ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ফের ইসরাইলি হামলা: দুই শিশুসহ নিহত ৩ ◈ দুই দশক পর তারেক রহমান চট্টগ্রামে: ভোর থেকে পলোগ্রাউন্ডে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভিড় ◈ তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের অগ্রগতি, সমঝোতার পথে বাংলাদেশ ◈ আই‌সি‌সি থে‌কে জয় শাহকে ‘গদিচ্যুত’ করার সুবর্ণ সুযোগ! বাংলা‌দে‌শের সমর্থনে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ বয়কটের পরামর্শ সা‌বেক‌দের

প্রকাশিত : ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৩৮ সকাল
আপডেট : ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শিগগিরি ভাগ্য খুলছে দেড় শতাধিক কর্মকর্তার

অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগেই অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পাচ্ছেন বিসিএস ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তারা। তাঁদের সঙ্গে অতীতে বিভিন্ন ব্যাচের বঞ্চিত (লেফট আউট) কিছু কর্মকর্তাও পদোন্নতি পেতে পারেন। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে প্রশাসনে কর্মরত দেড়শোর বেশি যুগ্ম সচিবের ভাগ্য খুলতে পারে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। পদোন্নতির জন্য প্রায় ৩০০ কর্মকর্তা বিবেচনায়।

তবে বিষয়টি নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করে মুখ খুলতে রাজি হননি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতিতে নিয়মিত হিসেবে ২০তম ব্যাচকে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে একীভূত হওয়া ইকোনমিক ক্যাডারসহ এ ব্যাচে পদোন্নতির যোগ্য কর্মকর্তা আড়াই শর বেশি। এ ছাড়া অতীতে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তা আছেন আরো অন্তত ৪০ জন।

এসএসবির বৈঠকে তাঁদের কর্মজীবনের নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে পদোন্নতির জন্য প্রায় ৩০০ কর্মকর্তাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তবে এই ব্যাচের ৪৩ জন কর্মকর্তা শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিভিন্ন জেলার ডিসি এবং ৪০ জন কর্মকর্তা মন্ত্রীদের একান্ত সচিব (পিএস) ছিলেন। তাঁদের পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে না বলে আভাস পাওয়া গেছে।

এরই মধ্যে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ডিসি পদে দায়িত্ব পালনকারী ৪৩ জনকে ওএসডি করা হয়েছে।

অন্য একটি সূত্র বলছে, ফ্যাসিস্ট আমলের ডিসি ও মন্ত্রীদের পিএসদের মধ্যেও অনেকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পেতে যাচ্ছেন। এর কারণ হিসেবে বলছেন, ২০তম ব্যাচের অনেকে শেখ হাসিনার আমলে ডিসি বা পিএস হলেও তাঁরা মূলত একটি বিশেষ দলের সমর্থক ছিলেন এবং ওই দলের দায়িত্বশীলদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এ কারণে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরও তাঁরা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। তাঁদের মধ্যে কিছু কর্মকর্তা অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

সূত্রমতে, বিসিএস ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়া ১৯৯৯ সালে শেষ হয়। ২০১৯ সালে যুগ্ম সচিব হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেও তাঁদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে ২০২১ সালে। যুগ্ম সচিব হিসেবে দুই বছর চাকরি করলেই অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জিত হয়। সেই হিসাবে ২০২৩ সালে এই ব্যাচের কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সচিব হওয়ার যোগ্যতা অর্জিত হয়েছে। এরই মধ্যে এই ব্যাচের কর্মকর্তাদের চাকরিজীবনের সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি)। পদোন্নতির জন্য গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এসএসবির এক ডজনের বেশি সভা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অতিরিক্ত সচিবের পদ ৪১৮টি। এসব পদের বিপরীতে অতিরিক্ত সচিব আছেন ২৮৬ জন। বাকি ১৩২টি অতিরিক্ত সচিবের পদ বর্তমানে শূন্য। এতে অর্ধশতাধিক দপ্তর-সংস্থার প্রধানের পদ পূরণ করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া কর্মকর্তাসংকটের কারণে অনেক অতিরিক্ত সচিবকে দু-তিনটি অনুবিভাগের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। ফলে প্রশাসনে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

ব্যতিক্রম নয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও। এ মন্ত্রণালয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে আটকে আছে শত শত ফাইল। শৃঙ্খলা অধিশাখায় ৩৬টি বিভাগীয় মামলা চলমান। সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা অধিশাখায় ১১০টি এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পেনশনের ১৮০টি নথি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিধি তৈরির শাখাটিতেও ৪৪টি বিধি অপেক্ষমাণ রয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ে এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন।

এ প্রসঙ্গে প্রশাসনবিষয়ক বহু গ্রন্থের প্রণেতা সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের সময়মতো পদোন্নতি দেওয়া উচিত। নইলে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। প্রশাসনিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হয়। হতাশাগ্রস্ত একটি প্রশাসনের জন্ম হয়। নির্বাচনের তফসিল নিয়মিত পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়। পদোন্নতির সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্কও নেই। যাঁরা নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাঁদের বিষয়টি ভিন্ন। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে হলেও সময়মতো যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিতে হবে।

সূত্র: যায়যায়দিন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়