অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসার নতুন ঝুঁকি রেটিংয়ে সর্বোচ্চ ঝুঁকির তৃতীয় স্তরেই রয়ে গেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে পিছিয়েছে দেশটির বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়।
দ্বিতীয় বা মাঝারি ঝুঁকির স্তরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৩ থেকে বেড়ে হয়েছে ২২টি।
জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর গত ৩০ সেপ্টেম্বর দেশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি রেটিং হালনাগাদ করেছে। নতুন মূল্যায়নে ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরের ভিসা ফলাফলের তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশনের সবশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর প্রধান ১০ উৎস দেশের মধ্যে বাংলাদেশসহ ছয়টি এখন উচ্চঝুঁকির শ্রেণিতে।
অন্য পাঁচটি দেশ ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও কলম্বিয়া।
ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কা মাঝারি ঝুঁকিতে এবং এই ১০ দেশের মধ্যে শুধু চীন নিম্ন ঝুঁকির স্তরে রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য তৃতীয় স্তরের এই অবস্থান নতুন নয়। তবে সবশেষ মূল্যায়নেও অবস্থানের উন্নতি না হওয়ায় বাংলাদেশ উচ্চ ঝুঁকির তালিকাতেই থাকছে।
এবার বড় পরিবর্তন এসেছে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রেটিংয়ে। দ্বিতীয় স্তরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৩ থেকে বেড়ে ২২টিতে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি আঞ্চলিক এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন মূল্যায়নে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম স্তর থেকে দ্বিতীয় স্তরে নেমেছে।
বর্তমানে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম এবং ২২টি দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে।
তৃতীয় স্তরে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। গত বছর প্রথম স্তরে উন্নীত হওয়া ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১০টির সেই অবস্থানও এবার আর নেই। তবে কোন বিশ্ববিদ্যালয় কোন স্তরে রয়েছে, তার পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করে না অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর।
দপ্তরটির ভাষ্য, এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করা হলে নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অসৎ আবেদনকারীদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এবং বাজারেও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব পড়তে পারে। এই ঝুঁকি রেটিং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানের কোনো মূল্যায়ন নয়। সংশ্লিষ্ট দেশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ভিসার ফলাফল ও অভিবাসন ঝুঁকির কয়েকটি সূচক হিসাব করে এই রেটিং নির্ধারণ করা হয়।
এর মধ্যে জালিয়াতির কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হারকে সবচেয়ে বেশি ৪০ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভিসা বাতিলের হারকে ২৫ শতাংশ, ২৮ দিনের বেশি অবৈধভাবে অবস্থানকে ১৫ শতাংশ, জালিয়াতি ছাড়া অন্য কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানকে ১০ শতাংশ এবং স্টুডেন্ট ভিসার পর সুরক্ষা ভিসার আবেদনের হারকে ১০ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দেশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই রেটিং একসঙ্গে বিবেচনা করে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের সময় আর্থিক সক্ষমতা ও ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ কিভাবে দিতে হবে, তা নির্ধারণ করা হয়। ফলে বাংলাদেশের তৃতীয় স্তরের অবস্থানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেটিংও বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষার ভিসা আবেদনে বড় পতনের তথ্য সামনে এসেছে।
স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে টাইমস হায়ার এডুকেশন জানিয়েছে, আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে উচ্চশিক্ষার ভিসার জন্য আবেদন করা বাংলাদেশিদের মাত্র ২৪ শতাংশের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আবেদন কমেছে ৮৩ শতাংশ। আর মঞ্জুর করা ভিসার সংখ্যা কমেছে ৯৩ শতাংশ।
তবে তৃতীয় স্তরে থাকা মানেই কোনো বাংলাদেশি আবেদনকারীর ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে, এমন নয়। ঝুঁকি রেটিং মূলত আবেদনের সঙ্গে কী ধরনের আর্থিক ও ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে, তা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়। প্রত্যেক আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করা হয়। সবশেষ মূল্যায়নে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রেটিংয়ে পরিবর্তন এবার বেশি দৃশ্যমান। ফলে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নিজের দেশের রেটিংয়ের পাশাপাশি পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থানও ভিসা আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারণে ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে। উৎস: কালের কণ্ঠ।