মনিরুল ইসলাম : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরীর ৫৩তম জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজনে। সাংবাদিক সমাজের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসা, ফুলেল শুভেচ্ছা এবং প্রাণবন্ত আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হল।
গতকাল ৩০ অক্টোবর ছিল এই শীর্ষ সাংবাদিক নেতার ৫৩তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘আড্ডা’ শিরোনামে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তার শুভানুধ্যায়ীরা। অনুষ্ঠানে বক্তারা কাদের গনি চৌধুরীর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন, পেশাগত দক্ষতা, সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে ভূমিকা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার সাহসী অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, তথ্য কমিশনার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা, মুরসালিন নোমানী, ডিইউজের সহসভাপতি রাশেদুল হক এবং বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামালসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ বখতিয়ার রানা, সদস্য কাজী রওনাক হোসেন ও শাহনাজ বেগম পলি, বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, বাসসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. ফজলুল হক, প্রধান বার্তা সম্পাদক (ইংরেজি) মো. মানিকুল আজাদ, সিটি এডিটর হারুন আল নাসিফ, প্রধান প্রতিবেদক (ইংরেজি) জি এম রাজিব হোসেন, বিজনেস এডিটর এস এম রাশিদুল ইসলাম, নিউজ কনসালট্যান্ট খোন্দকার কাওছার হোসেনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।
এ ছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ, সাবেক সভাপতি আবদুর রহমান, ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি জহিরুল হক রানা, গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এইচ এম দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, বৃহত্তর ঢাকা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নূরুদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোমিন হোসেন, সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম এবং ঢাকাস্থ চাঁদপুর জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি এ কে এম রাশেদ শাহরিয়ার উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাসসের প্রধান প্রতিবেদক (বাংলা) দিদারুল আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
সাংবাদিকতার পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বের প্রশংসা
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কাদের গনি চৌধুরী শুধু একজন সাংবাদিক নেতাই নন, বরং সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সাহসী ভূমিকা রাখা একজন সংগঠক। নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। তার নেতৃত্ব, পেশাদারিত্ব এবং সাংবাদিকতা নিয়ে সুদূরপ্রসারী চিন্তা সহকর্মীদের কাছে তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ কাব্যিক ভাষায় জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘তুমি এসেছো বলেই পৃথিবীতে এত ফুল ফুটেছে, তুমি এসেছো বলেই রাতগুলো জ্যোৎস্নাময় হয়েছে। শুভ জন্মদিন, গনি।’
তথ্য কমিশনার এস এ এম মাহফুজুর রহমান বলেন, কাদের গনি চৌধুরীর নেতৃত্ব, পেশাদারিত্ব এবং সাংবাদিকতা নিয়ে সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। সাংবাদিকতায় পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনা এবং শুদ্ধ সাংবাদিকতার চর্চা প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডিইউজে সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, কাদের গনি চৌধুরীর কর্মজীবনের পথ কখনো মসৃণ ছিল না। নানা ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই তিনি আজকের অবস্থানে এসেছেন।
ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম তাকে সাংবাদিক সমাজের ‘ঐক্যের প্রতীক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, কাদের গনি চৌধুরী আছেন বলেই সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য ও নেতৃত্ব রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন সাংবাদিক সমাজের নেতৃত্ব দিয়ে যাবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল কাদের গনি চৌধুরীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। ডিআরইউর সাবেক সভাপতি মুরসালিন নোমানী বলেন, কাদের গনি চৌধুরী কখনো আদর্শের সঙ্গে আপস করেননি।
রাজপথের সাহসী ভূমিকার স্মৃতিচারণ
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ বলেন, কাদের গনি চৌধুরী রাজপথের লড়াকু অগ্রসেনানী এবং অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ একজন নেতা। বিগত দীর্ঘ স্বৈরশাসন ও অন্ধকার সময়ে ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তার অপরিসীম ভূমিকা ছিল।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের রুটি-রুজির আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে কাদের গনি চৌধুরী সহকর্মীদের ভালোবাসা অর্জন করেছেন।
হাসান হাফিজ আরও বলেন, কাদের গনি চৌধুরীর নেতৃত্বে বাসস তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে শুরু করেছে। তার বলিষ্ঠ ও গতিশীল নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাটি আরও বিকশিত হবে।
ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চান দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে
অনুষ্ঠানে জন্মদিনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কাদের গনি চৌধুরী উপস্থিত সাংবাদিক নেতা, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, ‘আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমার আপনজন এবং প্রিয় সহকর্মীদের প্রতি, যারা আজকে এমন সুন্দর ও বর্ণাঢ্য আয়োজন করেছেন। এমন আয়োজনে আমি যেমন আনন্দিত, তেমনি আমার চিন্তা হচ্ছে—এই ভালোবাসার ভার সইতে পারব কিনা, এই ভালোবাসার সম্মান-মর্যাদা আমি রাখতে পারব কিনা।’
তিনি আরও বলেন, সহকর্মীদের এই ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা তাকে নিজের দায়িত্বের প্রতি আরও যত্নশীল করে তুলবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক বলেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেশের মাটি ও মানুষ, সভ্যতা ও মানবতা, সাংবাদিক এবং পেশাজীবীদের কল্যাণে নিবেদিত থেকে কাজ করতে চান তিনি।
সাংবাদিকতার মূল আদর্শ তুলে ধরে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সত্যকে সত্য, সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার যে রীতি সাংবাদিকদের রয়েছে, তা মেনে চলতে হবে। এ জন্য তিনি সবার দোয়া কামনা করেন।
তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি। মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে সাংবাদিক নির্যাতন হবে না এবং গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় প্রেস ক্লাব মসজিদের ইমাম মাওলানা মনিরুজ্জামান। পরে কেক কাটার মধ্য দিয়ে শেষ হয় জন্মদিনের বর্ণাঢ্য আয়োজন।