নিজস্ব প্রতিবেদক: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় একটি অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর পটুয়াখালী জেলার ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ও আমাদের সময় ডটকমের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মো. এনামুল হক এনা।
লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, গত ২৬ জুলাই তিনি দৈনিক মানবকণ্ঠের সাংবাদিক জসিম উদ্দীন অন্তু, আনন্দ টিভির নাজিম উদ্দীন এবং দৈনিক জাগো জনতার মো. রিয়াজকে নিয়ে বাউফল উপজেলার দাসপাড়া এলাকায় একটি অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে যান।
তার দাবি, সেখানে এক নাবালিকা মেয়ের বক্তব্য ও ভিডিও সাক্ষাৎকার সংগ্রহ করেন তারা। পরে স্থানীয় একটি কম্পিউটারের দোকানে বসে সংবাদ তৈরির কাজ করার সময় বিষয়টি জানাজানি হলে সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়।
এনামুল হক এনার অভিযোগ, ইসকনের স্থানীয় কয়েকজন নেতা এবং কয়েকজন সাংবাদিকের সহযোগিতায় তাকে ও সাংবাদিক মো. রিয়াজকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাঁদাবাজির মামলায় আসামি করা হয়। বাউফল থানায় দায়ের হওয়া ওই মামলার নম্বর ৪২(০৭)২০২৬।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে চারজন সাংবাদিক উপস্থিত থাকলেও মামলায় শুধু তার ও মো. রিয়াজের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাকি দুই সাংবাদিকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা পরিকল্পিত বলে তিনি দাবি করেন।
এনামুল হক বলেন, এর একদিন আগে তিনি বাউফলে ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার নিয়োগ পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন। ওই সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় একটি সাংবাদিক সংগঠনের কয়েকজন নেতা তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, ২৬ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হাসপাতাল সড়ক এলাকায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তাকে ও তার সহকর্মীদের ঘিরে ধরে এবং সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।
মামলার পর তার বাড়িতে দুই দফায় পুলিশ তল্লাশি চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেন এনামুল হক এনা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সিভিল পোশাকে আসা পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, পুরো ঘটনাটি তাকে ও তার সহকর্মীকে হয়রানি, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।