এল আর বাদল: জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য শুধু অর্থ উপার্জন করাই যথেষ্ট নয়; সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সঠিক মানুষকে বেছে নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে ভিয়েতনামের একটি জীবনধর্মী প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচক্ষণ মানুষ আর্থিক সংকটে থাকলেও দুটি ভুল করেন না। প্রথমত, দ্রুত ধনী হওয়ার লোভে ঝুঁকিপূর্ণ বা অবৈধ পথে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করেন না। তারা জানেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দক্ষতা ও ধৈর্যই টেকসই সাফল্যের চাবিকাঠি।
দ্বিতীয়ত, তারা নিজেদের ওপর বিনিয়োগ করতে কার্পণ্য করেন না। নতুন জ্ঞান অর্জন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বই পড়া বা প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়াকে তারা ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করেন।
অন্যদিকে, আর্থিকভাবে সফল হওয়ার পরও জ্ঞানী ব্যক্তিরা তিন ধরনের মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখেন।
প্রথমত, যারা সবসময় নেতিবাচক চিন্তা ছড়ায় এবং প্রতিটি সুযোগের মধ্যেই সমস্যা খোঁজে। এ ধরনের মানুষের প্রভাব আত্মবিশ্বাস ও প্রেরণা কমিয়ে দিতে পারে।
দ্বিতীয়ত, যারা ক্ষমতাবানদের তোষামোদ করে কিন্তু দুর্বল বা অধস্তনদের অবজ্ঞা করে। এমন আচরণকে চরিত্রের দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃতীয়ত, যারা শুধুমাত্র নিজেদের প্রয়োজনে সম্পর্ক বজায় রাখে। বিপদে সাহায্য চাইলেও প্রয়োজন শেষ হলে তারা সম্পর্কের মূল্য দেয় না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সত্যিকারের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আন্তরিকতা ও বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।
প্রতিবেদনটির মূল বক্তব্য হলো, সাফল্য শুধু সুযোগ কাজে লাগানোর মাধ্যমে আসে না; বরং ভুল সিদ্ধান্ত ও ক্ষতিকর সম্পর্ক এড়িয়ে চলার মধ্যেও এর বড় অংশ নিহিত। তাই আর্থিক অবস্থা যাই হোক না কেন, নিজের উন্নয়ন এবং সুস্থ সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়াই একজন বিচক্ষণ মানুষের বৈশিষ্ট্য।
বিঃদ্রঃ এটি একটি জীবনধর্মী মতামতভিত্তিক প্রতিবেদন। বিষয়গুলো সর্বজনীন সত্য বা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নিয়ম নয়; পাঠকদের তথ্যসূত্র হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: Gia đình & Sức khỏe Đời sống (ভিয়েতনাম)