দেশের ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ রোগ নিয়ে সচেতন না হলে আগামী দিনে বিপদ আরও বাড়বে। কিন্তু নন-অ্যালকোহলিক লিভারের ক্ষেত্রে ওষুধ খাওয়াই যথেষ্ট নয়। খাওয়াদাওয়ায় পরিবর্তন না এনে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়। এ সমস্যা রুখতে হলে প্রতিদিন ডায়েটে শাকসবজি রাখা জরুরি।
বর্তমানে শীতে বাজারে মৌসুমি শাকসবজি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। এ সময় শাকসবজি খান। এতে আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করবে। কারণ বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায় শাকসবজিতে। আর ফ্যাটি লিভারে প্রায় সব ধরনের শাকসবজিই খাওয়া যায়। তবে কিছু সবজি রয়েছে, যা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দূর করতে ভীষণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এসব শাকসবজি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলে লিভারের সমস্যা সহজেই দূর করা সম্ভব।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন সবজি খেলে আপনি ফ্যাটি লিভারের হাত থেকে মুক্তি পাবেন—
লাউ
দিনে ১৫০-২০০ গ্রাম লাউ খেলে, ফ্যাটি লিভারের সমস্যা এড়াতে পারবেন। লাউয়ের মধ্যে পানির পরিমাণ বেশি। এ সবজি আপনার শরীরকে হাইড্রেটেড এবং ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি আপনার শরীরে জমে থাকা টক্সিন বের করে দেয়। তা ছাড়া লাউ শরীরে ফ্যাট জমতে দেয় না। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে লাউয়ের রস খেতে পারেন। এতে ওজনও কমবে।
কপিজাতীয় সবজি
ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকোলি ভীষণ উপকারী সবজি। এসব সবজি লিভারের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। এ ধরনের সবজিতে উচ্চ পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। এ ছাড়া কপিজাতীয় সবজিতে বিশেষ যোগ রয়েছে, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। কপিতে সালফোরাফেন নামক এক ধরনের যৌগ রয়েছে, যা লিভারের কোষকে পুনর্গঠনে সাহায্য করে থাকে। এ ছাড়া এ ধরনের সবজি খেলে লিভারে জমে থাকা টক্সিন বেরিয়ে যায়। এর জেরে ফ্যাটি লিভারের সমস্যাও কমে আসে।
বিটরুট
আপনি ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় ভুগলে বিটরুট খেতে পারেন। কারণ বিটের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা প্রদাহ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এর পাশাপাশি লিভারে ফ্যাট জমতে দেয় না। আর হেপাটাইটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে বিট। প্রতিদিন সকালে বিটের জুস খেলে লিভারে জমে থাকা টক্সিনও সহজে বেরিয়ে হয়ে যাবে।