ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) উদ্যোগে একটি পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মূল পরিকল্পনায় ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার। এতে রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় এবং প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে ইশতেহারের নানা দিক তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় বিএনপির সাম্প্রতিক ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি—১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি—বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। ইশতেহারে প্রস্তাবিত কর্মসংস্থান উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে আইটি ও ডিজিটাল সেক্টর সম্প্রসারণ, স্কিল ট্রেনিং ও প্রশিক্ষণভিত্তিক চাকরি সৃষ্টি, এসএমই ও কুটির শিল্প উন্নয়ন, ই-কমার্স ও রপ্তানি সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে জনবল নিয়োগ, পাশাপাশি কৃষি ও অবকাঠামোসহ অন্যান্য সেক্টর থেকে পরোক্ষ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।
এছাড়া পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন ইস্যুতেও ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। নদী, খাল-বিল ও পরিবেশ রক্ষায় পানি প্রবাহ নিশ্চিতকরণ, তিস্তা ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ, ২৫ কোটি গাছ রোপণ এবং সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনাকে শিক্ষার্থীদের সামনে ব্যাখ্যা করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ আলমগীর পাভেল এবং মিডিয়া সেলের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবা–মোহনপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগের বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহিন শওকত, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফাইসাল সরকার ডিকো এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, এ ধরনের পলিসি ডায়ালগে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ তাদের জন্য একটি ইতিবাচক ও ভিন্ন অভিজ্ঞতা। তারা বলেন, রাজনৈতিক ইশতেহার নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রশ্ন করার সুযোগ ভবিষ্যৎ নাগরিক হিসেবে তাদের সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক। অনেক শিক্ষার্থী বিএনপির ইশতেহারে দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়গুলোকে জনগণের ভবিষ্যৎ ভাবনার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বলে মত দেন।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠানে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যায় থেকে সরাসরি কোনো বক্তব্য রাখা হয়নি। তবুও আলোচক ও অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি একটি চিন্তাশীল ও আলোচনা-ভিত্তিক পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয় বলে আয়োজকরা দাবি করেন।