শিরোনাম
◈ প্রচারণায় প্রার্থীদের সহিষ্ণুতার প্রশংসা প্রধান উপদেষ্টার, রোববার থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ◈ কারাগার থেকে পোস্টাল ভোট দিলেন আনিসুল, পলকসহ প্রায় অর্ধশত ‘ভিআইপি’ বন্দিরা ◈ ব্যাংক সংস্কারের উদ্যোগে ধাক্কা, আটকে গেল বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ সংশোধন ◈ সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন—সংবিধানে কী আছে ◈ দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় আমেরিকা, অপর পাল্লায় ভারত: চরমোনাই পীর (ভিডিও) ◈ নির্বাচনের জন্য সহায়ক পরিবেশ রয়েছে, চাপ নেই: নির্বাচন কমিশনার মাছউদ ◈ আমি শুনেছি সরকারের একটি মহল কয়েকজনের লিস্ট করেছে তাদের পাশ করাতে হবে : মির্জা আব্বাস  ◈ ২০২৬ সালের হজের ভিসা ইস্যু শুরু কাল থেকে: বড় সিদ্ধান্ত জানাল সৌদি আরব ◈ দাবি না মানলে সৌদি ছাড়তে প্রস্তুত রোনালদো ◈ বিএনপির কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে এবার আপিল বিভাগে নাহিদ ইসলাম

প্রকাশিত : ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৭:৪৪ বিকাল
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন—সংবিধানে কী আছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের কারা শপথ পড়াবেন, এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা উঠেছে। সরকার বলছে, রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি বা সিইসি শপথ পাঠ করাবেন।

যদিও সংবিধানের তৃতীয় তফসিল এবং ১৪৮ অনুচ্ছেদে শপথ নিয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। তবে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করায় এ নিয়ে আলোচনার জন্ম হয়েছে।

কে কাকে শপথ পাঠ করাবেন

সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে শপথ পাঠের কথা বলা হয়েছে। এতে প্রথমে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করাবেন স্পিকার।

প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার শপথ নেবেন রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে।
সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন স্পিকার। প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। আর সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান বিচারপতি।


প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যদের প্রধান বিচারপতি শপথ পড়াবেন।

শপথের ব্যাখ্যা

সংবিধানের একাদশ ভাগে ‘পদের শপথ’ নিয়ে ১৪৮ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, তৃতীয় তফসিলে উল্লিখিত যে কোন পদে নির্বাচিত বা নিযুক্ত ব্যক্তি কার্যভারগ্রহণের পূর্বে উক্ত তফসিল-অনুযায়ী শপথগ্রহণ বা ঘোষণা (এই অনুচ্ছেদে ‘শপথ’ বলিয়া অভিহিত) করবেন এবং অনুরূপ শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর দেবেন।

(২) এই সংবিধানের অধীন নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তির নিকট শপথগ্রহণ আবশ্যক হলে অনুরূপ ব্যক্তি যেরূপ ব্যক্তি ও স্থান নির্ধারণ করবেন, সেইরূপ ব্যক্তির নিকট সেইরূপ স্থানে শপথগ্রহণ করা যাবে।

২(ক) অনুসারে, ১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার অধীন অনুষ্ঠিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হওয়ার তারিখ হতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন ব্যক্তি যে কোন কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হলে বা না করলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই এর জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।

(৩) এই সংবিধানের অধীন যে ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তির পক্ষে কার্যভার গ্রহণের পূর্বে শপথগ্রহণ আবশ্যক, সেই ক্ষেত্রে শপথগ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবে।

আইন উপদেষ্টার বক্তব্য

এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, আমাদের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নতুন যারা সংসদ সদস্য হবেন ১২ তারিখে নির্বাচনের পরে, তাদের শপথ গ্রহণ করার কথা হচ্ছে স্পিকারের, স্পিকার না থাকলে ডেপুটি স্পিকারের। ওনারা না থাকলে অন্য বিধানও আছে।

তিনি বলেন, এখন আমাদের এখানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন নিখোঁজ, আরেকজন জেলে আছেন। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু মামলা আছে এবং তারা পদত্যাগও করেছেন, বিশেষ করে স্পিকার। ফলে এই অবস্থায় ওনাদের দ্বারা শপথ গ্রহণ করার কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। আমাদের আইনে আছে ওনারা যদি শপথ গ্রহণ করাতে না পারেন তাহলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাবেন।

আসিফ নজরুল বলেন, তিন দিনের মধ্যে যদি এই শপথটা না হয় তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন। এখন এটা সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত, আমি আপনাদের চূড়ান্ত কিছু বলতে পারব না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সামনে দুটো অপশনই আছে। একটি হচ্ছে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাতে পারেন। ফর এক্সামপল যেমন হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন, আর যদি এটা না হয় তাহলে আমাদের যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন উনি শপথ গ্রহণ করাবেন। সে ক্ষেত্রে একটা সমস্যা আছে, তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না। আমরা নির্বাচন হওয়ার পরে যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই। আমার এখানে সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আছেন, উনি আসবেন, ওনার সঙ্গে কথা বলব আইন নিয়ে। তারপরে চূড়ান্ত পর্যায়ে আমি আমাদের প্রধান উপদেষ্টার অভিমত জানাব। উৎস: বাংলানিউজ24

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়