মোঃ জালাল উদ্দিন, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—বিশেষ করে যুব সমাজের হাতেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “যারা বুক চিতিয়ে এই দেশকে নতুন করে দাঁড় করিয়েছে, যাদের ত্যাগ ও স্বপ্নের ওপর বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে—তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী আপসহীনভাবে কাজ করবে।”
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং) দুপুর ১২টায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার নবীনচন্দ্র (এনসি) উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার পর এটি ছিল জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নিজ জন্মমাটিতে প্রথম নির্বাচনী জনসভা। দীর্ঘদিন পর কুলাউড়ায় তার আগমনকে কেন্দ্র করে জনসভা প্রাঙ্গণে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
দুপুরে হেলিকপ্টারে করে কুলাউড়া পৌঁছালে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, দলীয় কর্মী ও স্বজনরা ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। জনসভা মাঠে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও মৌলভীবাজার–২ (কুলাউড়া) আসনের এমপি পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম. সায়েদ আলীর সভাপতিত্বে এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল ইয়ামির আলীর সঞ্চালনায় আয়োজিত এ জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান কুলাউড়া ও মৌলভীবাজার অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, “দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করা হবে, যাতে প্রবাসীসহ দেশের মানুষের যাতায়াত সহজ হয় এবং এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হয়।”
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্নীতির কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “বিমানের লোকসানের মূল কারণ দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতিকে চিরতরে বন্ধ করা হবে। আমাদের লক্ষ্য—চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া।”
তিনি আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে সকল নাগরিক সমান মর্যাদা পাবে। ধর্ম, দল কিংবা মতের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য থাকবে না। রাষ্ট্র হবে জনগণের এবং রাষ্ট্র পরিচালিত হবে জবাবদিহিতার ভিত্তিতে।”
যুব সমাজের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, “যুবকরাই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের সততা, মেধা ও সাহসকে কাজে লাগিয়েই আগামীর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।”
জনসভা শেষে মঞ্চ থেকে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াত আমির। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের নির্বাচনী কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
এ জনসভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের জামায়াত নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।