সকালে ঘুম ভেঙেই এক কাপ চায়ের আশায় রান্নাঘরে ঢুকলেন। কিন্তু চুলার পাশে বা সিঙ্কের কোণে হঠাৎ চোখে পড়ল তেলাপোকা! বিরক্ত হয়ে খালি মগ হাতে নিয়েই বেরিয়ে এলেন। এমন অভিজ্ঞতা শুধু আপনার নয়, অনেকেরই প্রতিদিনকার দৃশ্য এটি।
রান্নাঘরে তেলাপোকার উপদ্রব শুধু বিরক্তিকরই নয়, বরং এটি স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। খাবার ও বাসনপত্রের সংস্পর্শে এসে তেলাপোকা নানা জীবাণু ছড়িয়ে দিতে পারে। তবে কিছু সহজ ও ঘরোয়া উপায় মেনে চললে সহজেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক কার্যকর কিছু উপায়-
রান্নাঘর রাখুন পরিষ্কার ও শুকনো
তেলাপোকা খাবার ও আর্দ্র পরিবেশে দ্রুত বংশবিস্তার করে। তাই রান্নাঘর নিয়মিত পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন রান্নার পর কাউন্টারটপ, চুলা ও সিঙ্ক ভালোভাবে মুছে ফেলুন। কোথাও পানি জমে থাকলে তা শুকিয়ে নিন। সিঙ্ক ও পাইপের লিকেজ দ্রুত ঠিক করুন এবং দীর্ঘ সময় ভেজা জায়গা না রাখুন।
খাবার সংরক্ষণে সচেতন
খোলা বা অরক্ষিত খাবার তেলাপোকার প্রধান আকর্ষণ। তাই চাল, ডাল, আটা, ময়দাসহ সব শুকনো খাবার এয়ার-টাইট পাত্রে রাখুন। ফল, শাকসবজি ও পচনশীল খাবার কাউন্টারটপে না রেখে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। ময়লার ঝুড়ি নিয়মিত পরিষ্কার করুন এবং প্রতিদিন আবর্জনা বাইরে ফেলুন।
প্রবেশের পথ বন্ধ করুন
দেয়াল, মেঝে বা ক্যাবিনেটের ছোট ফাটল ও গর্ত দিয়েই তেলাপোকা ঘরে ঢুকে পড়ে। রান্নাঘরের চারপাশ ভালোভাবে পরীক্ষা করুন। কোথাও ফাঁক বা ছিদ্র থাকলে সিল্যান্ট বা কীটপতঙ্গ প্রতিরোধক দিয়ে বন্ধ করে দিন। এতে তেলাপোকার প্রবেশ অনেকটাই কমে যাবে।
রান্নাঘর গুছিয়ে রাখুন
এলোমেলো রান্নাঘর তেলাপোকার নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমিয়ে না রেখে রান্নাঘর গুছিয়ে রাখুন। কম ব্যবহার হয় এমন জিনিস আলাদা করে সংরক্ষণ করুন এবং ক্যাবিনেট পরিষ্কার রাখুন, যাতে তেলাপোকা লুকানোর সুযোগ না পায়।
ব্যবহার করুন প্রাকৃতিক প্রতিরোধক
রাসায়নিক কীটনাশকের গন্ধ ও ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে প্রাকৃতিক উপায় বেছে নিতে পারেন। ক্যাবিনেট ও তাকের কোণে তেজপাতা রাখুন-এর তীব্র ঘ্রাণ তেলাপোকা সহ্য করতে পারে না। এছাড়া টি ট্রি অয়েল বা পিপারমিন্ট অয়েল পানির সঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে তৈরি করে তেলাপোকা থাকতে পারে এমন জায়গা ও প্রবেশপথে ব্যবহার করতে পারেন। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন