শিরোনাম
◈ আইন প্রণয়ন ও কমিটি গঠনে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ টিআইবির ◈ বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ ◈ এনআইডি সংশোধনে মাঠ পর্যায়ে নিষ্পত্তি, অনলাইনে হবে ভোটার এলাকা পরিবর্তন ◈ পূর্বশত্রুতার জেরে রাজধানীতে বিএনপি কর্মী খুন ◈ ঘুষিকাণ্ডে বিতর্কে জড়ানোর পর প্রথমবার মুখ খুললেন পারেদেস ◈ গোপন ফুটেজে উন্মোচিত কেলেঙ্কারি, পদ হারান যেসব বিশ্বনেতা ◈ বিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাসে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব ◈ বেনজীর আহমেদকে ফেরাতে দুবাইয়ের প্রশ্নের জবাব প্রস্তুত করছে দুদক ◈ যে কারণে ভিসা চালু হলেও ভারতে যাচ্ছেন না বাংলাদেশিরা ◈ যে দিন ৬ মিনিট অন্ধকারে ডুবে থাকবে পৃথিবী!

প্রকাশিত : ২১ জুলাই, ২০২৬, ০৭:৪৫ বিকাল
আপডেট : ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গোপন বিয়ে কি ইসলামে বৈধ? যা বলছে কোরআন-হাদিস

আদর্শ পরিবার গঠন, জৈবিক চাহিদা পূরণ ও মানসিক প্রশান্তি লাভের প্রধান উপকরণ বিয়ে। বিয়ে মানুষের জীবন পরিশীলিত, মার্জিত ও পবিত্র করে তোলে। সৃষ্টির শুরুলগ্ন থেকেই বিয়ের বিধান পালন হয়ে আসছে। প্রাপ্ত বয়স্ক ও সামর্থ্যবান হলে- কালবিলম্ব না করে বিয়ে করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। 

কিন্তু বর্তমানে নানা কারণে ‘গোপন বিয়ে’ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে- এ ধরনের বিয়ে কি বৈধ, নাকি শরিয়তে অপছন্দনীয়? এ বিষয়ে ইসলামী শরিয়তের নির্দেশনা ও ফকীহদের মতামত জানা জরুরি।

বিয়ের বৈধতার মৌলিক শর্ত

যদি গোপন বিয়ে বলতে এমন বিয়েকে বোঝানো হয়, যেখানে কোনো সাক্ষী ছাড়াই নির্জনে বর-কনে ইজাব-কবুল করেছেন, তাহলে ইসলামী আইনজ্ঞদের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী এ ধরনের বিয়ে সম্পূর্ণ বাতিল ও অকার্যকর। কারণ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে শরিয়তসম্মত হয় না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ وَشَاهِدَيْ عَدْلٍ

‘অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে (সম্পূর্ণ) হয় না।’ (বায়হাকি ১৪৭৩৯)

সাক্ষী থাকলে বিয়ে কি গোপন থাকে?

যদি দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং পরে তা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকে, তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে এটিকে গোপন বিয়ে বলা হয় না। এ ধরনের বিয়ের বৈধতা নিয়ে ফকীহদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।

তবে যদি বিয়ের সময় সাক্ষীদের বলে দেওয়া হয় যে তারা যেন কারও কাছে এ বিয়ের কথা প্রকাশ না করেন, তাহলে এ বিষয়ে ইসলামী আইনজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

ফকীহদের মতামত-

জামিয়া আল-আজহারের সাবেক গ্র্যান্ড ইমাম শায়খ মাহমুদ শালতুত (রহ.) বলেন, সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ে হলেও যদি সাক্ষীদের গোপন রাখার শর্ত দেওয়া হয়, তাহলে অধিকাংশ ফকীহ এটিকে অপছন্দনীয় (মাকরুহ) বলেছেন। তবে এর বৈধতা নিয়ে দুটি মত রয়েছে।

প্রথম মত অনুযায়ী- দুইজন সাক্ষী উপস্থিত থাকলেই বিয়ে বৈধ হয়ে যায়। পরে গোপন রাখার শর্ত বিয়ের বৈধতাকে নষ্ট করে না।

কিন্তু ইমাম মালিক (রহ.) এবং তার মতের অনুসারী একদল আলেমের মতে- সাক্ষীদের গোপন রাখার শর্ত সাক্ষ্য প্রদানের মূল উদ্দেশ্যই নষ্ট করে দেয়। কারণ বিয়েতে সাক্ষী রাখার উদ্দেশ্যই হলো সমাজে বিয়ের ঘোষণা পৌঁছে দেওয়া, যাতে মানুষের অধিকার রক্ষিত হয় এবং কোনো সন্দেহ সৃষ্টি না হয়।

বিয়ে প্রকাশ করার নির্দেশনা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

أَعْلِنُوا هَذَا النِّكَاحَ

‘তোমরা এই বিয়ে প্রকাশ কর।’ (মুসনাদ আহমদ ১৬১৩০, তিরমিজি ১০৮৯)

এছাড়া আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً

‘আর তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ কর। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।’ (সুরা আর-রূম: আয়াত ২১)

গোপন বিয়ে আতঙ্কের, প্রশান্তির নয়

যে বিয়ে করার পর মানুষের মনে সার্বক্ষণিক আতঙ্ক, ভয়, পরিবার ও সমাজের কাছে প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার উদ্বেগ কাজ করে, তা কখনো আল্লাহ তাআলার উপহার হতে পারে না। পবিত্র কোরআনে যে বিয়েকে মানসিক প্রশান্তি, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার ভিত্তি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, তা কখনোই এরকম ভীতিপ্রদ হতে পারে না। যে বিয়ে একটি সুন্দর পরিবার গড়ে তোলে, বংশমর্যাদা রক্ষা করে এবং আত্মীয়তার নতুন বন্ধন তৈরি করে তা এ রকম গোপনীয় হতে পারে না।

ইসলাম সব ক্ষেত্রে সততা ও স্বচ্ছতা পছন্দ করে। বিয়ে দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে হওয়া জরুরি হওয়ার উদ্দেশ্য হলো বিয়ে যেন প্রকাশ্য থাকে, গোপনীয় না থাকে। যদি সাক্ষীর উপস্থিতি সেই উদ্দেশ্য পূরণ করতে না পারে, তবে তা আল্লাহর দেওয়া বিধানকে ফাঁকি দেওয়ার একধরনের কৌশল মাত্র; শরীয়তের দৃষ্টিতে যা অগ্রহণযোগ্য।

নিজের দ্বীন ও আত্মসম্মানকে কলঙ্কমুক্ত রাখা প্রতিটি মুমিনের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। গোপন বিয়ে একজন মানুষকে দ্বীনি ও সামাজিক উভয় দিক থেকেই মারাত্মক সংশয়ের মুখে ফেলে দেয়। একদিকে যেমন বিয়ের প্রচার সংক্রান্ত অসংখ্য হাদিসকে উপেক্ষা করা হয়, অন্যদিকে সামাজিক লজ্জা ও অপমানের ভয় মানুষকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খায়। তাই শয়তানের প্ররোচনা ও অন্যান্য অজুহাতগুলো কঠোরভাবে দমন করে বিয়ে প্রকাশ্যেই করা উচিত। সাময়িক যে কোনো অসুবিধার চেয়ে ইমান ও ইজ্জত রক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়