শিরোনাম
◈ বাংলাদেশের ব্রহ্মপুত্রের নদের পলিতে রেয়ার আর্থের সন্ধান, খুলতে পারে উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পের নতুন দুয়ার! ◈ এবার হান্নান মাসউদের এমপি পদ শূন্য চেয়ে হাইকোর্টে রিট ◈ মহাসড়কে ৬০টি অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স: দুর্ঘটনা মোকাবিলায় নতুন যুগের সূচনা ◈ আঞ্চ‌লিক উত্তেজনার কথা ব‌লে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করলো আরব আ‌মিরাত! ◈ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষ করে তুল‌তে ২৩৫ কোটি টাকার ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ পাননি একজনও ◈ রাজশাহীতে চলন্ত ট্রেনের ওয়াগন থেকে যেভাবে চুরি করল তেল, ভিডিও ভাইরাল ◈ যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ বাংলাদেশ ◈ ক্রিকে‌টে চমকের জন্য তৈরি শাহরুখ খান, দ্য হান্ড্রেডে দেখা যেতে পারে নাইটরাইডা‌র্সের নতুন দলকে?  ◈ বাংলাদেশের কাছে হেরে মাথাব্যথা বেড়ে গে‌ছে অস্ট্রেলিয়ার! দ্বিতীয় টেস্টে বাদ ওপেনার  ◈ সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম

প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫১ দুপুর
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

মহাসড়কে ৬০টি অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স: দুর্ঘটনা মোকাবিলায় নতুন যুগের সূচনা

মনিরুল ইসলাম:  দেশের মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে শিগগিরই নামানো হচ্ছে ৬০টি অত্যাধুনিক বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) অ্যাম্বুলেন্স। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) উদ্যোগে এই আধুনিক জরুরি সেবা চালু হলে দুর্ঘটনার পর গুরুত্বপূর্ণ ‘গোল্ডেন আওয়ার’ কাজে লাগিয়ে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান, প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক করিডরে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে চন্দ্রা-এলেঙ্গা-রংপুর করিডর, হাটিকুমরুল-নাটোর-রাজশাহী করিডর এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় কল সেন্টারের মাধ্যমে সবচেয়ে কাছের অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহাসড়কের নির্দিষ্ট অংশে প্রায় ১০ কিলোমিটার পরপর একটি করে অ্যাম্বুলেন্স অবস্থান করবে, যাতে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা যায়।

এই সেবাকে আরও কার্যকর করতে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে একটি কেন্দ্রীয় কল সেন্টার। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর কল সেন্টার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুততম সময়ে অ্যাম্বুলেন্স পাঠাবে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদেরও সক্রিয় করা হবে।

প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে থাকবেন প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ, যারা পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। অ্যাম্বুলেন্সগুলোতে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকবে, যাতে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া যায়।

এছাড়া ‘বাইস্ট্যান্ডার কেয়ার’ উদ্যোগের আওতায় মহাসড়কের পাশে বসবাসকারী স্থানীয় মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ মিটার পরপর প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক রাখা হবে, যারা দুর্ঘটনার পরপরই আহতদের সহায়তা করতে পারবেন।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী আরও জানান, এই জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আহত ব্যক্তিকে প্রথমে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি বলেন, পাইলট প্রকল্প সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে এই সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে একটি সমন্বিত ও আধুনিক সড়ক দুর্ঘটনা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার পর প্রথম এক ঘণ্টা বা ‘গোল্ডেন আওয়ার’ সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। সরকারের এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্য পূরণে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়