শিরোনাম
◈ পিকঅ্যাক্সে হামলার শঙ্কা, ইরান ঘিরে মার্কিন তৎপরতা : ৯ নভেম্বর কেন গুরুত্বপূর্ণ? ◈ বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের নতুন কৌশল, গুরুত্ব পাচ্ছে কর্মসংস্থান ◈ চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড় অবনতি, চাপে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ◈ প্রথম ধাপে দেশের ১ হাজার ৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ◈ ২০২৭ সালে গোল্ডেন ভিসার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করবে পর্তুগাল সরকার ◈ আমন মৌসুমে সাড়ে ৮ লাখ টন ধান-চাল কিনবে সরকার, ধানের দাম ৩৫ টাকা কেজি ◈ দুর্নীতির কারণে কার্যকারিতা হারিয়েছে অনেক সমবায় সমিতি, স্বচ্ছতা নিশ্চিতের তাগিদ রাষ্ট্রপতির ◈ সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক ◈ উৎপাদন এলাকায় কম, ঢাকায় কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শীতের সবজি ◈ লিও‌নেল মে‌সি আবারও গোল্ডেন বুট জিতলেন

প্রকাশিত : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩০ বিকাল
আপডেট : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পিকঅ্যাক্সে হামলার শঙ্কা, ইরান ঘিরে মার্কিন তৎপরতা : ৯ নভেম্বর কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সমুদ্রপথে অবরোধের পাশাপাশি এবার স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত পণ্য সরবরাহ বন্ধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

একই সময়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনাও চলছে।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নতুন এই টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দেয়। রয়টার্স, আল জাজিরা ও এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

টাস্কফোর্সটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আয়রন গেট’। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার টাম্পায় এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রায় ২০ জন বেসামরিক ও সামরিক সদস্য নিয়ে গঠিত দলটি মার্কিন সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

Advertisement

সেন্টকমের ভাষ্য, ইরানের স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা, দ্বৈত ব্যবহারের প্রযুক্তি, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত উপকরণ এবং অবৈধ অর্থের প্রবাহ বন্ধ করাই এই টাস্কফোর্সের লক্ষ্য।

সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, সমুদ্রপথে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের সাফল্য আরও জোরদার করবে এই উদ্যোগ। মার্কিন সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে ইরানের অস্ত্র কারখানা পুনর্গঠন, সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের সুযোগ সীমিত করা সম্ভব হবে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের নৌ অবরোধের কারণে ইরান ২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে পারেনি। গত জুলাই থেকে অবরোধ কার্যকরের অংশ হিসেবে ১৪৭টি বাণিজ্যিক জাহাজকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হয়েছে। এ ছাড়া, নির্দেশ অমান্য করায় পাঁচটি জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার ওমান উপসাগরে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি হুদাকে অচল করার কথাও জানিয়েছে সেন্টকম। তাদের ভাষ্য, জাহাজটির কর্মীদের নির্দিষ্ট স্থান ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেওয়ার পর একটি মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ থেকে নির্ভুল নিশানায় গোলাবর্ষণ করা হয়।

নৌ অবরোধ এড়িয়ে অস্ত্র আমদানির অভিযোগ

রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মার্কিন নৌ অবরোধ ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরান অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানির জন্য গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম, বিস্ফোরক ও ভারী ট্রাক আমদানি করেছে ইরান।

রাশিয়া থেকে কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজে, মধ্য এশিয়া থেকে ট্রাকে এবং চীন থেকে কার্গো উড়োজাহাজে এসব পণ্য ইরানে প্রবেশ করেছে বলে রয়টার্সের অনুসন্ধানে জানা গেছে।

এ প্রেক্ষাপটে নতুন টাস্কফোর্স গঠনকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়ানোর আরেকটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলার শঙ্কা

এদিকে ইরানের মধ্যাঞ্চলে নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার কাছে অবস্থিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখানে হামলার হুমকি দেওয়ার পর সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

গালফ নিউজ, দ্য সানডে টাইমস ও আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনের ভূগর্ভস্থ স্থাপনাটি অত্যন্ত সুরক্ষিত। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর কিছু অংশ গ্রানাইট পাথরের ৮০ থেকে ১০০ মিটার গভীরে অবস্থিত। ফলে প্রচলিত শক্তিশালী বাংকার বিধ্বংসী বোমা দিয়েও স্থাপনাটি ধ্বংস করা কঠিন হতে পারে।

তবে স্থাপনাটির প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকেরা কখনো সেখানে প্রবেশের অনুমতি পাননি। স্যাটেলাইট চিত্রেও সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম চলছে, তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদন কিংবা পারমাণবিক উপাদান সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে এগুলো এখনো অনুমান, নিশ্চিত তথ্য নয়। ইরান বলছে, ভূগর্ভস্থ স্থাপনাটি ২০২০ সালে নাতাঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত সেন্ট্রিফিউজ সংযোজন কারখানার বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে।

ট্রাম্প এর আগে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করে সেখানে বড় ধরনের হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। চলতি সপ্তাহেও তিনি বলেছেন, ইরানের এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এখনো ব্যবস্থা নিতে হবে।

৯ নভেম্বর হামলার জল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান নিয়ে ৯ নভেম্বর তারিখটিও আলোচনায় এসেছে। ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে আবার অভিযান শুরুর বিভিন্ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছেন মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ৯ নভেম্বর অমাবস্যা শুরু হওয়ায় রাতের অন্ধকারে সামরিক অভিযান পরিচালনার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এখনো হামলার অনুমোদন সংক্রান্ত কোনো নির্বাহী নির্দেশ পায়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ ৯ নভেম্বর হামলা হতে পারে, এমন খবর থাকলেও এটি নিশ্চিত কোনো সামরিক সময়সূচি নয়।

এরইমধ্যে গত শুক্রবার ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের কেশম দ্বীপে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর সীমিত হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানায়, দ্বীপটির সুজা এলাকায় দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

গত শনিবার কেশম দ্বীপ ছাড়াও জাস্ক, সিরিক ও বন্দর আব্বাস শহরে কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করে আইআরএনএ। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির কাছে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার সমুদ্র মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরমাণু হামলার শঙ্কা, ২ কোটি ডলার পুরস্কার

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে ট্রাম্প এমন হামলার নির্দেশ দিয়েছেন বা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, এখন পর্যন্ত এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউসও এ ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিয়ে ছড়ানো একটি দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

ট্রাম্প এর আগে ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। সামরিক বিশ্লেষকেরা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার বিভিন্ন কাল্পনিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করলেও সেগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত সামরিক পরিকল্পনার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তবে এ ধরনের হামলা হলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটলে মাটি ও পাথরের সঙ্গে তেজস্ক্রিয় পদার্থ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর প্রভাব আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দিতে ২০ মিলিয়ন বা ২ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় এ পুরস্কার দেওয়া হবে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে তথ্য দিলে এই অর্থের পাশাপাশি প্রয়োজনে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও করা হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, আইএইএর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে পালন না করায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে সংস্থাটির তথ্যের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে। তবে কোন ধরনের তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট শর্ত জানানো হয়নি।

অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, দেশের নেতৃত্ব পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইরান ইতোমধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি আগেই জানিয়েছিলেন, পারমাণবিক নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কাছাকাছি এলাকায় আয়োডিন ট্যাবলেট বিতরণের খবরও এসেছে। দ্য সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, পারমাণবিক স্থাপনার দুই থেকে তিন কিলোমিটার এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে এসব ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। তবে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আয়োডিন বিতরণ নিয়ে ওই প্রতিবেদনের তথ্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

হামলার হুমকি ও আলোচনার মধ্যে দোদুল্যমান ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার হুমকি দিলেও যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার অগ্রগতির কথাও বলছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার অবস্থানে এই দ্বৈততা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, সম্ভব হলে ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না, তবে প্রয়োজনে তা করতে হতে পারে। এর পরদিনই তিনি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় সীমিত হামলার কথা স্বীকার করেন। একইসঙ্গে শুক্রবার বলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং চুক্তির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং জনসমর্থন কমে যাওয়াও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া ও শান্তি আলোচনা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েকটি শর্ত দিয়েছে ইরান। এর মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা, ইরানের বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ বন্ধ করা এবং হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা দেওয়া।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা শুরু করলে এবার আরও বিস্তৃত পরিসরে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। এমনকি ইরানে হামলায় সহায়তা করা যেকোনো দেশ বা বাহিনীকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।

কাতারের মধ্যস্থতায় চলছে আলোচনা

সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা থেমে নেই। কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দেওয়া পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ইরান সাতটি শর্ত পূরণের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক ও শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুই দেশের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার দাবি নাকচ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি শুধু তারাই ছড়ায়, যারা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায়।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জসিম আল থানি শুক্রবার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ‘নিখুঁত সময়ের’ অপেক্ষা না করার আহ্বান জানান।

সূত্র : দ্য ডেইলি স্টার

  • সর্বশেষ