ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের রিপাবলিক চত্বরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি জনসেবার মান নিয়ে অসন্তোষের জেরে দেশজুড়ে আয়োজিত বিক্ষোভের মধ্যে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এদিন বিকেল ৩টা পর্যন্ত ফ্রান্সজুড়ে অন্তত ২৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ফ্রান্সের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিসের রিপাবলিক চত্বরে মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে আতশবাজি ও বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় কয়েকটি গাড়ি ও রাস্তায় থাকা বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের খবরও পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন ।
জ্বালানি, খাদ্য ও জ্বালানি-নির্ভর পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং সরকারি জনসেবার মান নিয়ে অসন্তোষ থেকে বিক্ষোভের বিস্তার ঘটে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, শিক্ষকসংকট এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছিল। পরে শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও বিক্ষোভে যুক্ত হন। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর মান উন্নয়ন।
২০১৮ সালে ফ্রান্সে শুরু হওয়া ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কথাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এবারের বিক্ষোভে অনেককে সেই আন্দোলনের পরিচিত হলুদ জ্যাকেট পরতে দেখা যায়।