শিরোনাম
◈ সৌদির রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করল বিমান, ২১ অক্টোবর থেকে চালু হতে পারে দাম্মাম রুট ◈ ‘সিন্ডিকেট হচ্ছে ভাই’, সার সংকটে দিশেহারা গাইবান্ধার চরের কৃষকরা ◈ মাদক আস্তানায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রী ‘ইশরাকের অ্যাকশন’, আটক ৬ (ভিডিও) ◈ হামের থাবায় বাংলাদেশ, টিকাদানের ঘাটতি নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা ◈ সুন্দরবনের জলজ প্রাণীর দেহে প্লাস্টিক, মাছ খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে মানুষ ◈ দুই সপ্তাহের মধ্যে আজিমপুর কোয়ার্টার পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ সৌদিতে কূটনৈতিক তৎপরতায় শ্রীলঙ্কানের মৃত্যুদণ্ড বাতিল, দুই বাংলাদেশির বেলায় কী হলো? ◈ একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু, স্বজনদের দাবি রাতে খেয়েছিলেন নুডলস ◈ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, দেখেই বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর (ভিডিও) ◈ ড্যাপের নতুন সংশোধনীতে বুড়িগঙ্গার তীরে ভারী শিল্পের অনুমোদন, বন্যাপ্রবাহ এলাকায় আবাসন প্রকল্পের সুযোগ

প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:৪৩ রাত
আপডেট : ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:৪৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নিজের জমি অন্যের নামে নামজারি? বাতিল করতে যা করবেন

নিজের জমি অন্য কেউ বেআইনিভাবে নিজের নামে নামজারি করে নিলে দুশ্চিন্তায় পড়ার কিছু নেই। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ওই নামজারি বাতিল বা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া যায়। তবে এর জন্য জমির মালিকানার প্রমাণ সংগ্রহ এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা জরুরি। জেনে নিন এ পরিস্থিতিতে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে।

১. প্রথমে নামজারির তথ্য যাচাই করুন

আপনার জমি অন্যের নামে নামজারি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিসে (এসি ল্যান্ড অফিস) যোগাযোগ করুন। এ সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে—

  • কার নামে জমিটি নামজারি করা হয়েছে।
  • জমির খতিয়ান ও দাগ নম্বর কত।
  • নামজারি আদেশের তারিখ ও স্মারক নম্বর কী।
  • নামজারির আবেদন ও নিষ্পত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত নথিপত্র কী রয়েছে।

এসব তথ্য যাচাই করলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।

Advertisement

২. মালিকানার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করুন

নামজারি বাতিল বা সংশোধনের আবেদন করার আগে জমির মালিকানা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে হবে। যেমন—

  • জমির রেজিস্ট্রিকৃত দলিল।
  • সংশ্লিষ্ট খতিয়ান ও দাগের তথ্য।
  • উত্তরাধিকারসূত্রে জমি পেলে ওয়ারিশ সনদসহ প্রাসঙ্গিক নথি।
  • প্রতিপক্ষের নামে হওয়া নামজারি আদেশের কপি।
  • ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদ এবং জমির দখলসংক্রান্ত প্রমাণ।
  • জমির ধরন ও বিরোধের প্রকৃতি অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্রও প্রয়োজন হতে পারে।

৩. সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে আপত্তি বা আইনগত প্রতিকার চান

নামজারি প্রক্রিয়া চলমান থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আপত্তি জানিয়ে নিজের মালিকানার প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন।

অন্যদিকে, নামজারি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী আপিল, রিভিউ বা অন্য উপযুক্ত প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। কোন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে এবং কত দিনের মধ্যে করতে হবে, তা আদেশের ধরন ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে।

উল্লেখ্য, সব ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আপিল করলেই নামজারি বাতিল হবে—এমন নয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষ বা আইনজীবীর মাধ্যমে সঠিক আপিল কর্তৃপক্ষ ও সময়সীমা নিশ্চিত করুন।

৪. প্রয়োজনে দেওয়ানি আদালতের আশ্রয় নিন

প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিরোধের সমাধান না হলে অথবা জমির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে দেওয়ানি আদালতে মামলা করার প্রয়োজন হতে পারে। মামলার পরিস্থিতি অনুযায়ী মালিকানা ঘোষণার মামলা, দলিল বাতিলের মামলা কিংবা অন্য উপযুক্ত প্রতিকার চাওয়া যেতে পারে। আদালত প্রমাণ ও প্রযোজ্য আইন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দেবেন।

এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, নামজারি মূলত রাজস্বসংক্রান্ত রেকর্ড; শুধু নামজারি হলেই কেউ জমির চূড়ান্ত মালিক হয়ে যান না। আবার নামজারি বাতিল করলেই সব ক্ষেত্রে মালিকানা বিরোধের নিষ্পত্তি হয় না।

৫. অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন

জমির কাগজপত্র যাচাই করে সঠিক আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য ভূমি আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া ভালো। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বা ভূমি আপিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

সংক্ষেপে করণীয়

১. অন্যের নামে হওয়া নামজারির তথ্য ও আদেশ যাচাই করুন।
২. নিজের মালিকানার প্রমাণপত্র সংগ্রহ করুন।
৩. আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি, আপিল বা রিভিউয়ের আবেদন করুন।
৪. মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে প্রয়োজনে দেওয়ানি আদালতে মামলা করুন।

সঠিক নথিপত্র ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে বেআইনি বা ভুল নামজারির বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব। তবে প্রতিটি জমির বিরোধের পরিস্থিতি আলাদা হওয়ায় পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আইন ও সময়সীমা যাচাই করা জরুরি।

  • সর্বশেষ