শিরোনাম
◈ মাদক-জুয়া ঠেকাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত ◈ ফের ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল ◈ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের অর্থায়ন জটিলতা কাটছে, আগ্রহী চীনা ব্যাংক ◈ ঢাকা থেকে সারাদেশে বাসভাড়া কত, দেখুন নতুন তালিকা ◈ মক্কায় দ্বিতীয়বার সতর্কবার্তা, কী ঘটছে সৌদিতে? ◈ ৫১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন শুরু ১ অক্টোবর ◈ ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ ◈ সুপার এল নিনোয় সত্যিই কি মারা যাবে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ? ঝুঁকিতে কোন দেশগুলো  ◈ ফুটপাতে গাড়িচাপায় নির্মাণ শ্রমিক নিহত: মেহেদীর পরিবারকে টাকা দিয়ে মীমাংসা ◈ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সন্দেহে আটক: থানার কক্ষ ‘ভাঙচুর করে পালিয়েছে’ ১৭ জন, পুলিশ যা বলছে

প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:৪১ বিকাল
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আল জাজিরার প্রতিবেদন

সুপার এল নিনোয় সত্যিই কি মারা যাবে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ? ঝুঁকিতে কোন দেশগুলো 

চলতি বছর শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’র কারণে রেকর্ড বৈশ্বিক উষ্ণতা আগামী বছরের শুরু নাগাদ বিশ্বজুড়ে সাড়ে চার লাখ অতিরিক্ত মৃত্যুর কারণ হতে পারে। গতকাল বুধবার বৈশ্বিক গবেষণা সহযোগিতা সংস্থা ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব (সিআইএল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আমাদের সবার কি সত্যিই এতটা উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?

কী বলা হয়েছে প্রতিবেদনে
ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের (সিআইএল) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত এল নিনোর প্রভাবে স্বাভাবিক বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৫১ হাজার বেশি তাপজনিত মৃত্যু হতে পারে। গবেষণার লেখকেরা ২৪ হাজার ৩৭৮টি অঞ্চলে তাপমাত্রা ও অতিরিক্ত মৃত্যুর হারের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করে এই পূর্বাভাসে পৌঁছেছেন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জলবায়ু ও মানুষের ঝুঁকিপ্রবণতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

advertisement

এরপর তাঁরা এসব তথ্যের সঙ্গে তাপমাত্রার পূর্বাভাস মিলিয়ে এল নিনোর কারণে সৃষ্ট তাপ থেকে কত অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে, তা হিসাব করেছেন। এই হিসাব করা হয়েছে ১৯৯৬ থেকে ২০২৫ সালের গড় তাপমাত্রার তুলনায়। গবেষণাটির পদ্ধতি একটি পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশ করা হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাভাবিক বছরের তুলনায় অত্যন্ত উষ্ণ দিনের সংখ্যা ৪৪ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। ‘৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষ ঝুঁকিতে: সুপার এল নিনোর সময়ে কোথায় পদক্ষেপ নিলে জীবন বাঁচানো সম্ভব’—শিরোনামের প্রতিবেদনে গবেষকেরা চলতি বছরের এল নিনোকে ‘ভবিষ্যৎ থেকে আসা একটি পোস্টকার্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে, মাত্র কয়েক দশকের মধ্যেই এই ধরনের তাপমাত্রা নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পরিণত হবে।

advertisement

আগামী কয়েক মাসে তাপজনিত মৃত্যু মোকাবিলায় জরুরি সাড়া দেওয়ার কার্যক্রম উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অঞ্চলগুলোতে পরিচালনার সুপারিশ করেছে প্রতিবেদনটি।

সিআইএলের ‘অ্যাডাপটেশন ইনভেন্টরি’তে চরম তাপমাত্রার সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে মানিয়ে নিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি, সবচেয়ে উষ্ণ সময়ে চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো, মানুষ যাতে আশ্রয় নিতে পারে সে জন্য শীতলীকরণ কেন্দ্র স্থাপন এবং বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা।

advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ এবং সিআইএলের সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, এই প্রতিবেদন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের সুনির্দিষ্টভাবে দেখার সুযোগ দিচ্ছে যে, আগামী কয়েক মাসে জরুরি পদক্ষেপ কোথায় নেওয়া হলে হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব।

সুপার এল নিনো কী
এল নিনো হলো এমন একটি জলবায়ু চক্র, যখন নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অন্তত দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায়। এটি কয়েক বছর পরপর ঘটে এবং প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রের একটি অংশ। এই চক্রে একটি উষ্ণ পর্যায় রয়েছে, যার নাম এল নিনো এবং একটি শীতল পর্যায় রয়েছে, যাকে লা নিনা বলা হয়।

শুরু হয়ে গেছে ‘সুপার’ এল নিনো, ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে বিশ্বশুরু হয়ে গেছে ‘সুপার’ এল নিনো, ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে বিশ্ব
এল নিনোর সময়ে সমুদ্রের উষ্ণ পানি বৈশ্বিক আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদেরা সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা কয়েক মাস ধরে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে এল নিনোকে ‘সুপার’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেন। চলমান এল নিনোর তাপমাত্রা গত মাসে ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। কিছু পূর্বাভাস বলছে, নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এটি যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।

এ বছর পরিস্থিতি এত খারাপ কেন
এল নিনো কীভাবে তৈরি হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে ‘বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্র কীভাবে আচরণ করছে’ তার ওপর। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের ন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাটমস্ফেরিক সায়েন্স এবং ডিপার্টমেন্ট অব মেটিওরোলজির জ্যেষ্ঠ গবেষক অক্ষয় দেওরাস আল জাজিরাকে এ কথা বলেছেন।

দেওরাস ব্যাখ্যা করে বলেন, বছরের শুরুতে সাধারণত ইন্দোনেশিয়ার দিকে বাতাস প্রবাহিত হয় এবং এসব বাতাস সেখানে উষ্ণ পানি জমা করে। কিন্তু কখনো কখনো বাতাস দুর্বল হয়ে যায় অথবা বাতাসের প্রবাহের ধরন উল্টে যায়। তখন ইন্দোনেশিয়ার দিক থেকে শক্তিশালী বাতাস প্রবাহিত হয় এবং এর ফলে বিপুল পরিমাণ উষ্ণ পানি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পরিবাহিত হয়।

এই উষ্ণ পানি পরে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলের দিকে চলে যায়, যার ফলে এল নিনো তৈরি হয়। দেওরাস বলেন, ‘এ বছর আমরা বসন্ত মৌসুমে ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা এসব শক্তিশালী বাতাস দেখেছি। এগুলো বিপুল পরিমাণ গরম পানি বা বলা যায় উষ্ণ পানি পরিবহন করতে সাহায্য করেছে। আর এ কারণেই আমরা একটি সুপার এল নিনো পেয়েছি।’

এর প্রভাব কেমন হবে
অভূতপূর্ব শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও এ বছরের সুপার এল নিনো বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ওপর ঠিক কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান অ্যাডাম স্কেইফ বলেন, ‘এর প্রভাব এর মাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে কি না, বিজ্ঞানীরা এখনো তা মূল্যায়ন করছেন। তবে আমরা ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রত্যাশিত প্রভাবগুলো দেখতে পাচ্ছি।’

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণ দেখায় যে, এল নিনো বৈশ্বিক বৃষ্টিপাতের ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এই সময়ে যেসব অঞ্চলে সাধারণত বৃষ্টিপাত কমে যায়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্য ও উত্তর-দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং ভারতীয় গ্রীষ্মকালীন মৌসুমী বায়ু দ্বারা প্রভাবিত এলাকাগুলো।

দক্ষিণ আফ্রিকাসহ অন্যান্য কিছু অঞ্চলে খরার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এল নিনোর কারণে আটলান্টিক মহাসাগরে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের কার্যক্রমও কমে যায়। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে এখনো কোনো হারিকেন দেখা যায়নি। বৃষ্টিপাতের এই ব্যাঘাত বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং প্রাকৃতিকভাবে খাদ্য উৎপাদন ও ফসল কাটার মৌসুমেও পরিবর্তন আসতে পারে।

এল নিনোর কারণে এত বেশি অতিরিক্ত মৃত্যু কেন হতে পারে
অক্ষয় দেওরাস বলেন, ‘এল নিনো মূলত বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ তাপ ঢেলে দেয় এবং আমরা জানি, এই তাপ ও উচ্চ তাপমাত্রা মূলত চরম বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার ঘটনাগুলোকে আরও শক্তিশালী করে।’

দেওরাস বলেন, সুপার এল নিনো শুধু এসব ঘটনার সংখ্যা বাড়ায় না, বরং এগুলোর তীব্রতা ও ভয়াবহতাও বাড়িয়ে দেয়। ফলে সাধারণভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে আরও বেশি চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটবে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এর ফলে অনেক মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের জলবায়ুবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফ্রিডেরিকে অটো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে এল নিনোর প্রভাবকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। অটো বলেন, আগামী কয়েক মাসে এল নিনোর কারণে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং চরম আবহাওয়ার প্রভাব দেখা দিতে পারে। আর জলবায়ু পরিবর্তন এসব প্রভাবকে আরও তীব্র করবে, কারণ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সৃষ্ট নির্গমনের কারণে যে অতিরিক্ত তাপ জমা হচ্ছে, তা বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে আরও ওপরে ঠেলে দিচ্ছে।

অটো আরও বলেন, তবে এল নিনোর ধরন একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, যা আসে ও চলে যায়। জলবায়ু পরিবর্তন তা নয়। বিশ্বজুড়ে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে দ্রুত সরে আসার জন্য আরও দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের পরিস্থিতি কেবল আরও খারাপ হবে।

কোন দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং কেন
ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, অতিরিক্ত তাপের সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করবে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো। দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে নাইজেরিয়ায়। সেখানে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা হতে পারে ৩১ হাজার ৪০০। এরপর রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, যেখানে ১৯ হাজার ৩০০ এবং সুদান, যেখানে ১৭ হাজার ৬০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

নাইজার ও চাদের পাশাপাশি নাইজেরিয়া, সুদানসহ আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে তাপের কারণে অতিরিক্ত ৬৬ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। গবেষকেরা আরও পূর্বাভাস দিয়েছেন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় সম্মিলিতভাবে অতিরিক্ত ১৯ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

এল নিনো আগামী বছর পর্যন্ত আরও দীর্ঘায়িত হলে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে উত্তর গোলার্ধের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, যার মধ্যে ভারত ও পাকিস্তান রয়েছে, তাদের গ্রীষ্মকালীন মাসগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক থিংকট্যাংক ইথ্রিজির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক টম বার্কও একমত যে, গ্লোবাল সাউথ অসমভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, এল নিনোর কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত চাপ সামাল দেওয়া দুর্বল প্রতিষ্ঠান রয়েছে—এমন দেশগুলোর জন্য কঠিন। ফলে একটি দেশ যত দরিদ্র, সাধারণত তার প্রতিষ্ঠানগুলোও তত দুর্বল। এর বিপরীতে গ্লোবাল নর্থের দেশগুলোতে ‘এই ধরনের চাপ মোকাবিলার জন্য নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান রয়েছে: ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ইত্যাদি। এ ধরনের ঘটনার মোকাবিলায় তাদের বেশ জটিল একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো রয়েছে।

তবে দেওরাস বলেন, ‘এল নিনোর প্রভাব দক্ষিণ গোলার্ধে বেশি পড়বে, এমনটা ধরে নেওয়া বেশ কঠিন। কারণ অতীতে আমরা এই ধরনের এল নিনো দেখিনি। ফলে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে এবং উত্তর গোলার্ধেও চরম আবহাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি, এসব প্রভাব বিশ্বজুড়েই দেখা যাবে।’

সত্যিই কি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ মারা যাবে
টম বার্ক আল জাজিরাকে জানান, তাঁর বিশ্বাস, এই সংখ্যা আসলে একটি রক্ষণশীল বা কম হিসাব। কারণ এতে কেবল তাপজনিত মৃত্যুর বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে। বার্ক বলেন, এল নিনোর আগুন ও বন্যার কারণেও প্রভাব পড়বে, যা মৃত্যুর সংখ্যা বাড়াবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের মতো সংঘাত, যা খাদ্যের মূল্যস্ফীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর ফলে এমন মৃত্যুও বাড়তে পারে, যা পরিসংখ্যানের মাধ্যমে নথিবদ্ধ করা কঠিন।

অক্ষয় দেওরাস বলেন, প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান ‘অনুমাননির্ভর’ এবং আঞ্চলিক বণ্টন নিয়ে তিনি ‘সন্দিহান।’ এসব কারণে এত নির্দিষ্টভাবে মৃত্যুর সংখ্যা হিসাব করা কঠিন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতে ১৫ হাজারের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তাঁর কাছে এটি খুব বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না, কারণ ভারতে তখন গ্রীষ্মকাল থাকবে না, যখন প্রাণঘাতী শুষ্ক তাপপ্রবাহ আঘাত হানে। তবে তিনি মনে করেন, আগামী ১২ মাসে মৃত্যু এবং সেই সঙ্গে সম্পদ, অবকাঠামো ও অর্থনীতির ক্ষতির দিক থেকে এসব প্রভাবের অনেকটাই দেখা যাওয়ার ভালো আশঙ্কা রয়েছে।

 

  • সর্বশেষ