ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার গত সোমবার ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসের (আইপিএস) কর্মকর্তা বুশারা বানুকে বদলি করেছে। অনলাইনে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে ইসলামি সম্ভাষণ ‘সালাম’ ব্যবহার করায় হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি গোষ্ঠী তাঁর সমালোচনা করার দুই দিন পর তাঁকে বদলি করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
গত রোববার পোস্ট করা ওই ভিডিওতে বুশারা বানু ভারতের উত্তরপ্রদেশের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের (এএমইউ) রেসিডেনশিয়াল কোচিং একাডেমি কীভাবে তাঁকে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (ইউপিএসসি) বা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছে—সে বিষয়ে কথা বলেন।
ভিডিওতে মুসলিম এই আইপিএস কর্মকর্তা শুরুতেই ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলেন। এর অর্থ ‘আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।’ এরপর ভিডিওতে তিনি ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দটিও ব্যবহার করেন, যার অর্থ ‘আল্লাহ চাইলে।’ পাশাপাশি তিনি ‘জাযাকাল্লাহ’ বলেন, যার অর্থ ‘আল্লাহ আপনাকে পুরস্কৃত করুন।’
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন দ্য জয়পুর ডায়ালগ এবং হিন্দু লিগ্যাল ফান্ডসহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বুশারা বানোর এসব ইসলামি সম্ভাষণ ব্যবহারের সমালোচনা করে। তারা প্রশ্ন তোলে, তিনি কেন ‘বন্দে মাতরম’ বা ‘জয় হিন্দ’ বলেননি।
হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড বলেছিল, ‘ভারতীয় রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী একজন কর্মরত কর্মকর্তার উচিত জনসমক্ষে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা।’ সংগঠনটি আরও জানায়, তারা পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে অভিযোগ করেছে এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
২০২১ ব্যাচের কর্মকর্তা বুশারা বানু পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সোমবার তাঁকে স্টেট আর্মড পুলিশের চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ডিং অফিসার করা হয়। একই আদেশে আরও দুই কর্মকর্তাকেও বদলি করা হয়।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে বিরোধীরা। তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি মহুয়া মৈত্র বলেন, কেন্দ্রের ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার যখন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ‘প্রার্থনা কক্ষ’ তৈরি করে নিজেদের ‘ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি’ তুলে ধরছে, তখন রাজ্য পর্যায়ের আরেক বিজেপি সরকার ‘শুধু আসসালামু আলাইকুম ও জাযাকাল্লাহ বলার কারণে একজন মুসলিম নারী আইপিএস কর্মকর্তাকে...এক পাশে সরিয়ে দিচ্ছে।’ মহুয়া মৈত্র আরও বলেন, রাজ্য সরকার ‘গোদিমিডিয়া টিভি’ বা ‘কোলাবরেটর মিডিয়া’র ছড়ানো ঘৃণাকে আরও এগিয়ে নিচ্ছে।