আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত ‘বোস্কে দে চাপুলতেপেক’ পার্ক। আকারে-আয়তনে সুবিশাল। আলো ঝলমলে এক দিনে পরিবার নিয়ে সেখানে ঘুরতে গিয়েছিলেন ছোট্ট হুয়ানা রামিরেজ। বয়স তখন তাঁর মাত্র তিন বছর। মা-বাবার হাত ধরে পার্কের চিড়িয়াখানা ঘুরে ফেরার সময় ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার—হাতের আঙুলটা এক মুহূর্তের জন্য ফস্কে যেতেই ভিড়ের মাঝে চোখের পলকে হাওয়া হয়ে গেল ফুটফুটে শিশুটি!
অপহরণকারীরা শিশু হুয়ানাকে নিয়ে চলে যায় মেক্সিকোরই অন্য এক শহর তলুকাতে। সেখানে ছোট্ট মেয়েটিকে জানানো হয়, ১ অক্টোবর ১৯৯৫—যেদিন তাকে অপহরণ করা হয়েছিল, সেটাই নাকি তার জন্মদিন! অথচ তার আসল জন্মদিন ছিল ১৬ জুন। এমনকি অপহরণকারীরা তার নামও বদলে দিয়েছিল। ছোট্ট হুয়ানার নতুন নাম রাখা হয়েছিল ‘রসিও’। ---- আজকাল
বছর গড়াতে থাকে। প্রতিবেশীদের মুখে গুঞ্জন শুনে বড় হতে থাকা হুয়ানা একদিন সত্যিটা জানতে চাইলে তাঁর পালক ‘মা’ দাবি করেন যে, পার্কের ভেতর একা ঘুরে বেড়ানোর সময় নাকি তাঁরা তাঁকে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন!
কিন্তু ওই পরিবারে হুয়ানার ওপর নেমে এসেছিল নির্যাতনের খড়্গ। কোনওমতে দিন কাটানোর পর ১৭ বছর বয়সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান তিনি, পরে বিয়েও করেন। এদিকে গত ২৪ বছর ধরে উন্মাদের মতো নিজের মেয়েকে খুঁজে বেড়িয়েছেন হুয়ানার জন্মদাত্রী মা লোরেনা রামিরেজ। সূত্র না পেলেও একদিনের জন্যেও কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি।
এত বছর পর সব হিসেব পাল্টে দিল আধুনিক প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়া। ফেসবুকে নিজের একটি ছোটবেলার ছবি আপলোড করেছিলেন হুয়ানা (রসিও)। সেই ছবি চোখ এড়ায়নি নিখোঁজ হুয়ানার বোন মারিয়া হোসে-র! ছবির সঙ্গে নিজের পরিবারের চেহারার অবিশ্বাস্য মিল দেখে আর চুপ থাকতে পারেননি তিনি।
সঙ্গে সঙ্গে জুয়ানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং শুরু হয় বৈজ্ঞানিক সত্যতা যাচাইয়ের পালা। ডিএনএ টেস্টে মিলে যায় ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল! অবশেষে দীর্ঘ ২৭ বছরের যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে ২০২২ সালে এক আবেগঘন রিইউনিয়ন ঘটে মা ও মেয়ের। প্রিয় মেয়েকে বুকে জড়িয়ে মা লোরেনা কান্নাভেজা চোখে বলে ওঠেন, "আমি হারিয়েছিলাম এক তিন বছরের ছোট্ট মেয়েকে, আর ফিরে পেলাম ৩০ বছরের এক যুবতীকে। আমার মেয়ের জীবনের কত শত সুবর্ণ সময় ওরা কেড়ে নিয়েছে!
অন্যদিকে মাকে দেখার সঙ্গে সঙ্গেই হুয়ানা জড়িয়ে ধরে বলে ওঠেন, "তুমিই আমার মা!" বর্তমানে হুয়ানা নিজে একজন বিবাহিত এবং এক সন্তানের জননী। অন্যদিকে, এই চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপহরণকারী সেই দম্পতিকেও পাকড়াও করেছে মেক্সিকান পুলিশ।