আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বন্ধ বাণিজ্য, লেনদেন। 'আঞ্চলিক উত্তেজনা' আর নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আর্থিক লেনদেন বন্ধ করে দিল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আফরা আল হামেলি জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের জলসীমায় ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মারা হয়েছে- আমিরাতের এই অভিযোগের পরপরই বাণিজ্য বন্ধের এমন কড়া পদক্ষেপ করা হলো। পরে আমিরাত সরকার জানায়, সমুদ্রপথে পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতেই ওই ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ছোড়া হয়েছিল।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধরা পড়ে যে ইরান থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মারা হয়েছে। এর একটি আমিরাতের সমুদ্রসীমার ভেতরে এবং অন্যটি বাইরে গিয়ে পড়ে। তবে এতে বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
অন্যদিকে এই অভিযোগ নিয়ে ইরান এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি। তবে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, আমেরিকার সঙ্গে শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত 'কৌশলগতভাবে' গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধই থাকবে। উল্লেখ্য, আমিরাতসহ গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্য মূলত এই জলপথের ওপরই নির্ভরশীল।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ঘটনার ফলে দু’দেশের সম্পর্কে টানা পোড়েন আবারও চরম আকার নিল। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমিরাতকে লক্ষ্য করে প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান, যা এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি।
পরে জুন মাসে একটি সমঝোতা চুক্তির পর আমিরাতে হামলা বন্ধ ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তাপ।