শিরোনাম
◈ টান টান উত্তেনার ফাইনা‌লে দ্য হান্ড্রেডে প্রথম শিরোপা জিতলো ম্যানচেস্টার সুপার ◈ কঠোর শর্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প, বাড়ছে রফতানির সম্ভাবনা ◈ শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণ আবেদন, ‘কোন স্ট্যাটাসে আছেন জানি না’: চিফ প্রসিকিউটর ◈ স্পেনের সেউতায় শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশীর বিক্ষোভ, আছেন বাংলাদেশিরাও: আশ্রয়ের দাবিতে সোচ্চার ◈ কারাগার ভাঙার দুই বছর পরও অধরা ৫১৯ বন্দী, পরিচয় মিলছে না ১৮২ জনের ◈ সিলেট মাজার এলাকায় অভিনেতা সমু চৌধুরীর উত্তেজিত আচরণ, ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিও ◈ ছয় মাসে বিএনপি সরকারের কার্যক্রম: অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও আগামী পরিকল্পনা ◈ আমার ক‌্যা‌রিয়া‌রে  সর্বকালের সেরা ছি‌লেন শচীন টেন্ডুলকার: শো‌য়েব আখতার ◈ ম‌্যান‌চেস্টার সি‌টি‌কে হা‌রি‌য়ে কমিউনিটি শিল্ড চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল ◈ ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত, জানা গেল উৎপত্তিস্থল ও মাত্রা

প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫২ দুপুর
আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্পেনের সেউতায় শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশীর বিক্ষোভ, আছেন বাংলাদেশিরাও: আশ্রয়ের দাবিতে সোচ্চার

দুই সপ্তাহ আগে ব্যাপকভাবে সীমান্ত পেরিয়ে মাত্র ৮০ হাজার জনগোষ্ঠীর এই ক্ষুদ্র ভূখণ্ডটিতে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ অনধিকার প্রবেশ করে। পরবর্তী কয়েক দিনে তাঁদের বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছায় ফিরে গেলেও রয়ে গেছেন আনুমানিক ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়েছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক ৩৪ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। এরপর থেকে দুই বছর ধরে ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, মিসর, লিবিয়া ও আলজেরিয়া পাড়ি দিয়েছেন। এর অধিকাংশই হেঁটে পাড়ি দিতে হয়েছে তাঁকে। মরুভূমিতে তৃষ্ণায় প্রাণ হারাতে দেখেছেন অনেক সহযাত্রীকে। এখন তাঁর ঠাঁই হয়েছে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায়। চাচ্ছেন আশ্রয়।

সেউতার এক সৈকতে বিক্ষোভ করছেন মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনের মতো শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশী। মরক্কোতে ফেরত না পাঠিয়ে তাঁদের স্পেনে আশ্রয় দিতে জোর দাবি জানাচ্ছেন।

শহরের সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় অধিকাংশ অভিবাসী মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় এল ত্রাম্পোলিন সৈকত বা শহরের উপকণ্ঠে মানবেতর পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন।

মরক্কোর তেতুয়ান থেকে আসা আইয়ুব এলআরুদ বলেন, ‘আমরা সমুদ্রের পাশে ঘুমাচ্ছি। এখানে মারাত্মক ঠান্ডা আর দুর্গন্ধ। আমরা অনেক কষ্টে আছি। পুলিশও শহরে দিকে যেতে বাধা দিচ্ছে।’

স্পেনের পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার তুলে ধরেন বিক্ষোভকারীরা। ব্যানারে লেখা, ‘আমরা মরক্কোয় ফিরে যেতে চাই না’ এবং ‘আমরাও মানুষ’। তাঁরা ‘আমরা ক্লান্ত’ ও ‘আমাদের একটি সমাধান দরকার’ এমন স্লোগানও দেন। বিক্ষোভকারীদের পেছনে দেখা যায়, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কেউ পাথুরে তীরে কাপড় ধুচ্ছিলেন, আবার কেউ বাঁশের তৈরি ছিপ দিয়ে মাছ ধরছিলেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানান, অনিয়মিতভাবে সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের সেখানে থাকার, স্পেনের মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার বা বৈধ মর্যাদা পাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে।

এদিকে সেউতার মেডিকেল বোর্ডের প্রধান এনরিকে রোভিরাল্তা ওন্দা সেরো রেডিওকে জানান, শহরের সীমিতসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের ধীরগতির প্রতিক্রিয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। রোভিরাল্তা আরও বলেন, ডায়রিয়া ও খোসপাঁচড়ার মতো সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি সহিংসতার ঘটনাও হু হু করে বাড়ছে।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া জানান, স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ রয়েছে তবে তা ভেঙে পড়েছে এ কথা সত্য নয়। আর অভিবাসনের সঙ্গে রোগব্যাধিকে যুক্ত করা অন্যায্য ও জেনোফোবিক। অভিবাসীদের মধ্যে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি মাঝারি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে তা কম।

সেউতায় অপেক্ষমাণ অধিকাংশ অভিবাসনপ্রত্যাশীই মরক্কোর। তাঁরা রয়টার্সকে জানান, তাঁদের দেশে কাজের পরিবেশ খারাপ হওয়ায় তাঁরা ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁদের অনেকেরই উচ্চতর যোগ্যতা রয়েছে।

ফেজ শহরের ৩৯ বছর বয়সী অটোমেশন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ওয়ানজার বলেন, মাসে গড়ে ৩ হাজার দিরহাম (৩২৪ ডলার) আয় করে তাঁর পক্ষে বাড়ি কেনা বা পরিবার শুরু করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘স্পেনের মাটিতে পৌঁছানোর পর আমার মনে হয়েছে, আমি যেন নতুন করে জন্ম নিয়েছি। ফিরে যাওয়ার চেয়ে আমি বরং মরতে চাই।’

সংঘাতকবলিত উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়া থেকে পালিয়ে আসা ৩০ বছর বয়সী ইমানুয়েল পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান। সন্তানদের অপহরণের আশঙ্কায় স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি নাইজার, আলজেরিয়া ও মরক্কো হয়ে চার মাসের একটি ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের জন্য আরও ভালো জীবনের লড়াই করছি।’ তিনি আরও জানান, যে কাজই তাঁকে দেওয়া হোক, তিনি তা করতে প্রস্তুত।

দক্ষিণ সেনেগালের উসমান জানান, তাঁর যৌন পরিচয়ের কারণে নির্যাতনের শিকার হওয়ায় তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করছেন। তবে তিনি যেসব স্থানীয় বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, সেগুলোর কাছ থেকে এখনো কোনো উত্তর পাননি। তিনি আফসোস করে বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো সারাদিন কিছুই না করে বসে বসে ইমেইল চেক করা এবং উত্তরের অপেক্ষা করা।’

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়