ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে শনিবার ভোরে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে এখন পর্যন্ত ৩৮ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং শত শত বাসিন্দা তাদের বাড়ি থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। খবর সিএনএনের।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
এর উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এবং কেন্দ্র ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্ডে শহর থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের সর্বশেষ হতাহতের তথ্য জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ উপশম সংস্থা বিএনপিবি। এতে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে গুরুতর আহত দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং আরও ১১ জন সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
বিএনপিবি প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিএনআই সুহারিয়ান্ত বলেন, আনুমানিক দুই হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের কারণে দেশটিতে প্রাথমিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল তবে পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে ভূমিকম্পের তীব্রতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনগুলো প্রচণ্ডভাবে দুলছে। কিছু স্থাপনা ধসে পড়ছে এবং আতঙ্কিত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দৌড়াচ্ছে।
নাগেওকেও’র এক বাসিন্দা জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি বাজারে ছিলেন। তিনি বলেন, মাটি প্রচণ্ডভাবে কাঁপতে শুরু করলে মানুষ আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে। পরিবারের সবাই নিরাপদে আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তারা আপাতত এলাকা ছেড়ে পাহাড়ি এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
৩১ বছর বয়সী এক হাসপাতালকর্মী জানান, হঠাৎ করে ভূমিকম্প শুরু হলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। হাসপাতালের রোগীরাও বাইরে বেরিয়ে আসেন। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে হাসপাতালের কয়েকটি দেয়ালে ফাটল দেখা যায়। পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের সিক্কা’র এক বাসিন্দা জানান, সেখানে বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাউমেরে বন্দরের টার্মিনালের অপেক্ষাকক্ষের একটি অংশ ধসে পড়েছে বলেও তিনি জানান।
ফ্লোরেসে ভূমিকম্প ও সুনামির ভয়াবহ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯২ সালে প্রায় ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে ফ্লোরেসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত। জাপান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকা পর্যন্ত বিস্তৃত এই অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা।
ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামি ঘটেছে। ২০০৪ সালে সুমাত্রার উপকূলের কাছে ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে পুরো অঞ্চলে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ নিহত হয়। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়াতেই মারা যায় প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ। ২০১৮ সালে লম্বক দ্বীপেও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে একের পর এক ভূমিকম্পে লম্বক ও পার্শ্ববর্তী সুম্বাওয়া দ্বীপে ৫৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়।